চাপের মধ্যে দিন কাটছে নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ অক্টোবর ২০২৬


দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি এখন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামবৃদ্ধি, বর্ধিত ইউটিলিটি খরচের ক্রমাগত চাপের কারণে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে তাদের। বাড়তি খরচের সামাল দিতে  মানুষ তাদের বিনোদন, ভ্রমণ থেকে দুরে থাকছেন, এমনকি টিকে থাকতে ভবিষ্যত্ সঞ্চয়ের মতো খাতগুলোতে খরচ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে সামগ্রিক বাজারে কমে যায় চাহিদা। এ পরিস্থিতিতে  ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়।   দেশের মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে সরকারি হিসাবেও।

জানা গেছে, গত কয়েক মাসে বাড়ালো হয়েছে বিদ্যুতের দাম, দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। সেই সঙ্গে বেড়েছে গ্যাসের দামও। জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের প্রভাবে গণপরিবহন ও যাতায়াত খরচ বেড়েছে। এতে একসময় যেসব পরিবার মাসে বা সপ্তাহে একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা বাজার-খরচের জন্য আলাদা করে রাখত, তাদের সেই হিসাব এখন মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত ‘জাতীয় হিসাব পরিসংখ্যান’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাকার অঙ্কে দেশের অর্থনীতির আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে  বেড়েছে চলতি মূল্যে দেশজ ও জাতীয় উভয় ধরনের সঞ্চয়ের পরিমাণ। তবে জিডিপি অনুপাতে দেশজ ও জাতীয় সঞ্চয়ের হার সেভাবে বাড়েনি, উলটো ধারাবাহিকভাবে কমেছে। গত তিন অর্থবছর ধরে জিডিপির অনুপাতে জাতীয় সঞ্চয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। আর জাতীয় সঞ্চয়ের পাশাপাশি জিডিপিতে বিনিয়োগের হারও কমেছে ধারাবাহিকভাবে ।  বিপরীতে বেড়েছে ভোগ ব্যয়।

বিবিএসের হিসাবে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৯.৯৫ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে সেটা কমে  এসেছে ২৬.৯৩ শতাংশে। অর্থনীতি বোদ্ধাদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধির কারণে খরচের চাপ বেড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার। ফলে আয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে সঞ্চয়ের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে ভোক্তাদের ।

জিডিপির তুলনায় সঞ্চয়ের হার কমে গেল বিনিয়োগের জন্য মূলধনও কমে যায়। বিনিয়োগ কম হলে তার প্রভাব পড়ে কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়ে। জাতীয় সঞ্চয় কমে গেলে তাতে বৈদেশিক বা অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যেতে পারে।  বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছরে জিডিপিতে মোট ভোগ ব্যয়  ৭৪.২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৮.৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।  ভোগ ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে  কয়েক বছর ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতি।

বিবিএসের হিসাবে, ছয় বছর আগে জিডিপিতে মোট বিনিয়োগ ছিল ৩১ শতাংশের ওপরে। সেখান থেকে নেমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশের নিচে। এ সময় বেসরকারি ও সরকারি বিনিয়োগ উভয়ই কমেছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮.৩৪ শতাংশ হয়েছে। আগস্টে এটা ছিল ৮.২৬ শতাংশ।  এর আগে টানা তিন মাস ৯ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি থাকার পর জুলাই ও আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছিল। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। মূল্যস্ফীতি বাড়লেও কমেছে জাতীয় গড় মজুরি হার।  সেপ্টেম্বরে জাতীয় গড় মজুরি হয়েছে ৭.৯০ শতাংশ,  আগস্টে ছিল ৮.০৫ শতাংশ। এতে সীমিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো খরচের চাপে ভুগছেন এখন।

এদিকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩.২ শতাংশে। ১০.৯ শতাংশ হতে পারে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি।

 

বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে

 


মন্তব্য
জেলার খবর