হত্যাচেষ্টা মামলায় ২১ বয়সী আসামি প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী !

সাজেদুর রহমান, গুরুদাসপুর
২৭ এপ্রিল ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুরে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রথম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে। জন্ম সনদ অনুযায়ী তার বয়স ৭ বছরের কিছু বেশি হলেও এজাহারে তার বয়স ২১ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।  এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে আদালত ওই শিক্ষার্থীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। সেই সঙ্গে মামলার বাদিকে পরবর্তী তারিখে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার নথি,বাদী-বিবাদী এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, নারীঘটিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এপ্রিল উপজেলার ধারাবারিষা উচ্চ বিদ্যালয়ে ধারাবারিষা গ্রামের শ্রাবণকে মারপিট করে স্থানীয় তারেক-মাহফুজুল তার সহযোগীরা। সেখান থেকে শ্রাবণকে প্রথমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।   ঘটনায় শ্রাবণের পিতা শাহনুর রহমান ১০ এপ্রিল জনের নামে গুরুদাসপুর থানায়  একটি হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। সেই মামলায় ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে ওই শিক্ষার্থীকে।

সরেজমিনে হুসেন আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল শেষে বাড়ির পাশে খেলা করছিলো হুসেন আলী। মামলা বা ঘটনা সম্পর্কে সে কিছুই জানে না। হুসেনের পিতা শাজাহান আলী (লিতাই) কবিরাজ জানান, তার ছোট ছেলে হুসেন আলী ধারাবারিষা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। কিভাবে তাকে মামলার আসামী করা হয়েছে, সেটা তার জানা নেই। তবে মামলায় তার নাম থাকায় নাটোর কোর্টে হাজির করে জামিনের আবেদন করলে কোর্ট তার জামিন মুঞ্জুর করেছেন।

ধারাবারিষা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত আলী জানান,ভর্তি রেজিষ্টার অনুসারে হুসেন আলী তার বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। জন্ম সনদ আনুসারে তার বয়স বছর মাস দিন। তার ভর্তি রোল ১৭।

মামলার বাদী শাহনুর রহমান জানান, তার  ছেলে শ্রাবণকে হত্যার উদেশ্যে মাহফুজ,তারেক, হাসানের সহযোগীরা মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেছে। ওই ঘটনার মামলায় নম্বর আসামী হাসানের স্থলে ভুলক্রমে তার ছোট ভাই হুসেনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা গুরুদাসপুর থানার সাব-ইসস্পেক্টর বখতিয়ার উদ্দিন খান বলেন,মামলার তদন্ত চলমান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী অভিযুক্ত নন। তবে বাদী তার মামলায় বড় ভাই হাসান আলীর স্থলে ভুল করে ছোটভাই হুসেন আলীর নাম যুক্ত করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে শিশু শিক্ষার্থীর নাম কর্তন করার সুযোগ রয়েছে।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুনজুরুল আলম জানান,  এ মামলায় ৩ নম্বর আসামী হুসেন আলী বয়স ২১ বছর উল্লেখ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ওই নামের আসামির বয়স বছর। তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে শিশুটির নাম বাদ দেওয়া হবে।

 

বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে



মন্তব্য
জেলার খবর