কয়েক দিন ধরে জ্বালানি তেল সংগ্রহে চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের গাড়ি বা মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি কিনছেন চালকরা। এমনকি জ্বালানি সংগ্রহের জন্য তাদের ঘুরতে হচ্ছে তিন-চারটি পাম্পে। এদিকে সরকার নির্ধারিত রেশনিং পদ্ধতিতে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গণপরিবহন চালকরা। চাহিদামতো ডিজেল না মেলায় লোকাল ও দূরপাল্লার বাসের ট্রিপ সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা করছেন মালিকরা। জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পণ্য পরিবহনেও পড়তে শুরু করেছে। ওদিকে তেল না থাকায় দেশের অনেক এলাকায় পাম্প বন্ধ রাখছেন মালিকরা। পাম্পে তেল নিয়ে ক্রেতার সঙ্গে কর্মচারীদের মারামারির ঘটনাও ঘটছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে দেশে। জানা গেছে, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু সুযোগ সন্ধানী পাম্প মালিক ও ডিলার যেন জ্বালানি তেল মজুত করতে না পা পারেন, এ জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, বেশি দামে বিক্রি ও পাচার ঠেকাতে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ।
তেল নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দেশের প্রধান প্রধান তেল ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সেই সঙ্গে পাম্পগুলোতে পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।
জ্বালানি তেল আমদানি প্রসঙ্গে জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এপ্রিলের জন্য প্রায় তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির চেষ্টা চলছে। সব দিকের সোর্স থেকেই তেল সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। যেখান থেকে পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই কেনা হবে। এমনকি প্রয়োজনে ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড পদ্ধতিতে তেল সংগ্রহ করা হবে।
দেশে জ্বালানি তেলের মজুত বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, মজুত সাশ্রয় করতে সরকার রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেল রেশনিং করে ব্যবহার করতে হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে