সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের গত ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিতে ব্যাংকগুলোকে চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে বিশেষ মেয়াদি ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথা বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চাপে রপ্তানি খাতে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এ সুবিধা দেওয়ার কথা জানালো বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়িক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি ধারাবাহিক নিম্নমুখী রপ্তানি, ক্রয়াদেশ পিছিয়ে যাওয়া, তারল্য সংকটসহ নানা কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। তাই উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রেখে রপ্তানির গতিধারা অব্যাহত রাখতে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন সহায়তা প্রদানের আবশ্যকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এ ঋণ সুবিধার পরিমাণ ঋণগ্রহীতা শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিগত তিন মাসের প্রদত্ত গড় বেতন-ভাতার অধিক হবে না। ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান মোট উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে তারা রপ্তানিমুখী শিল্প। যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদেরকে বিগত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে তারা সচল হিসেবে বিবেচিত হবে। সচল ও রপ্তানিমুখী হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠনের (বিজিএমইএ, বিকেএমইএ) প্রত্যয়নপত্র দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। এ ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক প্রচলিত সুদহার প্রযোজ্য হবে।
বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে