পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে দেশে অস্থির হতে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে চিনি ও ছোলার দাম। বাজারে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম। শীত মৌসুম শেষ হওয়ার আগে সরবরাহ কম থাকার অযুহাত দেখিয়ে বাড়ানো হয়েছে অধিকাংশ সবজির দাম। সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে- রোজার আগে বাড়তি চাহিদাকে পুজি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে ব্যবসায়ী।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি ছোলা ১০৫ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এখন। এক সপ্তাহ আগের দর ছিল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। চিনির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। অথচ সপ্তাহ দুয়েক আগেও দর ছিল ৯০ টাকা। অ্যাংকর ডালের কেজি ৫ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, ছোট দানার মসুর ডাল কিছুটা বেড়ে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে সয়াবিন তেল ৫ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকায়। একমাস আগের দর ছিল ৯২০ টাকা। প্রতিকেজি বেতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এখন। দুই সপ্তাহ ধরে পুরোনো বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে ৪-৫ টাকা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। নতুন মাঝারি চাল (বিআর-২৮, ২৯ ও পাইজাম) ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, একই মানের পুরোনো চাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৭২ থেকে ৮৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে ৪০ টাকা, শালগম ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, শসা ৮০ টাকা এবং গাজর ৮০ টাকা, টমেটো ৫০-৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, শিম জাত ভেদে ৪০ থেকে ৮০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং ছোট আকারের ব্রকলি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠো ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে, দেশে ছোলার চাহিদা বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টন। চাহিদা থেকে অন্তত ১ লাখ টন বেশি ছোলা আমদানি হয়েছে। চিনির সরবরাহে ঘাটতি নেই। রোজায় চিনির চাহিদা থাকে প্রায় ৩ লাখ টন। রোজা সামনে রেখে গেল প্রায় ৩ মাসে ৫ লাখ টন চিনি আমদানি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ২ লাখ ২৭ হাজার টন আমদানি বেড়েছে।
বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে