জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করতে হবে। সেই সময়সীমা রোববার (১৫ মার্চ) শেষ হচ্ছে। কিন্তু আজকে এ সভা হবে কিনা, সেটা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
এদিকে এ নিয়ে সরকারদলীয় জোট ও বিরোধীদলীয় জোটের মধ্যে ইতোমধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি দল বিএনপি বলছে, পরিষদের বিষয়ে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে সভা আহ্বানের জন্য সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, গণভোটের রায় কার্যকর না করলে রাজপথে যেতে বাধ্য হবে তারা। বিরোধী জোটের অন্যতম দল এনসিপির বলছে, প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দেননি বলেই রাষ্ট্রপতি সভা ডাকেননি। এর মাধ্যমে গণভোটের রায়কে অমান্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তথ্য সহায়তা সমকাল।
এদিকে চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন বসছে রোববার। এ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি সংসদে উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ১০ অনুচ্ছেদে সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের সভা আহ্বান করার কথা বলা হলেও সভা না ডাকলে কী হবে, সেটা বলা নেই আদেশে।
গত ১৩ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমোদনে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। এর ওপর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোট হয়। ৬৮ শতাংশের বেশি ভোটে আদেশটি অনুমোদন হয়। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠন করতে হবে ১৮০ কার্যদিবস মেয়াদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ।
গণভোটের ফল অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, ন্যায়পাল এবং দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের বিধান সংবিধানে যুক্ত করবে এ পরিষদ। একই সঙ্গে ভোটের অনুপাতে (পিআর) সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দিয়ে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠন করবে। পাশাপাশি জুলাই সনদের ৩০ সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে। এসব প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্য ছিল। বাকি ১০টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা নেই।
এদিকে প্রথম ৮ প্রস্তাবের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বাদে বাকিগুলোতে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে বিএনপির। মূলত এগুলো বাস্তবায়নে রাজি নয় বিএনপি। যদিও জামায়াত জোট বলছে, এগুলোই আসল সংস্কার।
ওদিকে বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলেও, জামায়াত জোটের ৭৭ জনসহ ৭৮ সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। জামায়াত বলছে, রাষ্ট্রপতি পরিষদের সভা না ডাকলেও কোরামের (৬০ জন) চেয়ে বেশি সংখ্যক সদস্য শপথ নেওয়ায় পরিষদ গঠিত হয়ে গেছে। সংবিধান সংস্কারে পরিষদে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায় বিরোধী জোট। নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী জুলাই সনদকে সংসদে বাস্তবায়ন করতে চায় বিএনপি।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে