পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অর্থ হরিলুটের পায়তারা চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাক্কারুল আলম কচি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.ফজলুল হক এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ।
প্রকল্পের
শ্রমিকের তালিকায়
গ্রাম পুলিশ, প্রাক্কলনের চেয়ে সাড়ে ৪০০ চারা কম রোপন, একচতুর্থাংশ
রিংপাইপ স্থাপনের মাধ্যমে এ অর্থ হরিলুটের পায়তারা করা হয়েছে।
জানা
যায়, বর্তমান সরকারের ইজিপিপি কর্মসুচির আওতায় খাল খনন প্রকল্পের আওতায় আটোয়ারী উপজেলায় বাগডোকরা পুরাডাঙ্গি পুল হতে পশ্চিমে আব্বাস আলীর জমি পর্যন্ত ৬০৫ মিটার খাল পুনঃখননে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫১ লাখ ৫৩
হাজার ৯৯৫ টাকা।
প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে পরিষদের ইউপি সদস্য করুনা পালকে। করুনা পাল জানান, তিনি নামেই সভাপতি। পুরো কাজ করেছেন চেয়ারম্যান। তাকে কোনদিন দেখতে যেতে হয়নি প্রকল্প। চেয়ারম্যান চেকের পাতায় স্বাক্ষর করে নিয়েছিল। কয়েকদিন পরে মোবাইলে মেসেজের মাধ্যমে জানতে পারেন ২৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
সম্প্রতি সরজমিনে দেখা যায়, এক হাজার ১৫৪ টি বৃক্ষ রোপন ধরা থাকলেও রোপন করা হয়েছে ৬৮০ টি। প্রতিটি গাছ, নেট ও খুঁটির খরচ ভ্যাট বাদে ৩৪০ টাকা বরাদ্দ। রিংপাইপ ১৯৬ টি স্থাপনের কথা থাকলেও ২২ স্থানে ৪৮ টি স্থাপন করা হয়েছে। সেতুর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের ইটের খোয়া, রড কি পরিমান দেওয়া হবে বলতে পারে না ঠিকাদার ও মিস্ত্রী। গাছ, নেট, বাঁশের খুঁটি ও রিংপাইপ এসব জিনিসের বাজার যাচাই করে দেখা গেছে, গাছের প্যাকেজে সর্বোচ্চ খরচ হয়েছে ১৫০ টাকা এবং রিংপাইপ ২ হাজার টাকার মধ্যে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তথ্যানুসারে, ৫০০ টাকা হাজিরা হিসেবে ১১৯ জন শ্রমিক কাজ করবেন ৪৩ দিন। তাদের হাজিরা নিজ নিজ ব্যাংক হিসাব নম্বরে যোগ হবে। খালটির দুই পাড়ে বৃক্ষ রোপন করার কথা ১ হাজার ১৫৪ টি, যার খরচ ধরা রয়েছে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৬০০ টাকা। রিংপাইপ ৩৬০ মিটারের বরাদ্দ ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯৬ টাকা। মাটি কাটা বাবদ ৩ লাখ ৫৬ হাজার ১৩ টাকা, ঘাস রোপনের জন্য ৭৬ হাজার ৩৮১ টাকা। দৈর্ঘ্য ৮ মিটার ও প্রস্থ ২ মিটার করে দুইটি সেতু নির্মানের জন্য ১০ লাখ ৫০ হাজার ৮৫৪ টাকা।
আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাক্কারুল আলম কচি জানান, সব কাজ ঠিকাদারের মাধ্যমে করা হয়েছে। আপনি পরিষদে আসেন, বসে আলোচনা করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রেজুলেশনের মাধ্যমে কমিটি করে পাঠানো হয়েছে। অতএব নিজেরা কাজ করার কোন সুযোগ নেই। শ্রমিকের তালিকায় যদি গ্রাম পুলিশের নাম থাকে, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজ এখনো শেষ হয়নি, চলমান রয়েছে।
বিভিন্ন অভিযোগে সেতুর কাজ বন্ধ করে তদন্ত কমিটি করার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবী। কাজ বুঝে নিয়ে বিল দেওয়ারও কথা জানান এ কর্মকর্তা।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে