তিন বছর ধরে লিভার,কিডনি ও ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্ত শয্যাশায়ী ইমামুল (২০)। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে দিশাহারা তার দিনমজুর পিতা। হাসপাতালের শয্যায় বেঁচে থাকার স্বপ্নে উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সাহায্যের অপেক্ষায় দিন কাটছে তার। ইমামুল নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চরকাদহ কান্দিপাড়া গ্রামের সুজন আলী ও শিল্পী দম্পতির একমাত্র সন্তান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইমামুল ছিলেন মুদি দোকানী। ৩ বছর আগে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে ধরা পরে লিভার, কিডনী ও ডায়াবেটিক । নাটোর জেলা সদর হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপালসহ বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে পরিবার এখন সর্বশান্ত। সম্পদ বলতে বাড়ির ৩ শতাংশ জায়গা ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই। এমন পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগীতায় সন্তানের জীবন ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন পরিবারের।
ইমামুলের মা শিল্পী বেগম চোখ মুছতে মুছতে বলেন, আমার একমাত্র ছেলে লিভারসহ নানা রোগে আক্রান্ত। হজমের সমস্যা, কিছু খেলেই সাথে সাথে শুরু হয় পায়খানা। ওর বাবা দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চালায়। ছেলের চিকিৎসার খরচ তো দূরের কথা, ওষুধ কেনাটাই আমাদের কাছে পাহাড়সম।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজাউদ্দৌলা বলেন, মুত্র রোগ নিয়ে ইমামুল ৫ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। সে লিভার, কিডনিসহ জটিল রোগে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বাবা সুজন আলী বলেন বলেন, ডাক্তাররা বলেছেন, ছেলে নানা রোগে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা দরকার। টাকা কোথায় পাব? কী করবো? কার কাছে যাবো? একমাত্র সন্তানের এই অবস্থা আমি আর সহ্য করতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেটা চোখের সামনে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে,কষ্ট পাচ্ছে, আমরা কিছুই করতে পারছি না। সরকারের কাছে অনুরোধ, তারা যেন আমাদের দিকে তাকায়। সমাজের ধনী ব্যক্তিরা একটু সহানুভূতি দেখাত, তাহলে হয়তো আমার ছেলেটাকে বাঁচানো যেত।
কান্না ভেজা কণ্ঠে ইমামুল বলেন, আমি বাঁচতে চাই, আমার লিভার, কিডনীর সমস্যা। কিছু খেতে পারি না। চিকিৎসায় বাবার সর্বস্ব চলে গেছে। এখন সমাজের সহৃদয়, বিত্তবান মানুষদের দিকেই তাকিয়ে আছি। আমাকে বাঁচাতে দয়া করে আপনারা সাহায্য সহযোগীতা করুন।
ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, ইমামুলের পরিবার খুব অসহায়। এই মুহূর্তে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবানদের কাছে অনুরোধ করছি, তারা যেন এই তরুণকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন।
একটু সহানুভূতি আর আর্থিক সহায়তা ফিরিয়ে দিতে পারে ইমামুলের মুখে হাসি। তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা সুজন আলী (পিতা) ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ০১৭৫৮১১২৭৪৯।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে