সামাজিক মাধ্যমে ইসলামধর্ম অবমাননাকর পোস্ট ঘিরে নাটোরের গুরুদাসপুর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে গুরুদাসপুর থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন ইসলাম ধর্মালম্বীরা। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অভিযুক্তের তালাবদ্ধ বাড়িটির নিরাপত্তায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা
গেছে, পবিত্র কাবাঘর,
মক্কা ও মদিনা শরিফ
নিয়ে কটূক্তিসহ ফেসবুকে
কুরুচিপুর্ন ছবি পোস্ট করেন শিমুল কর্মকার নামের এক হিন্দু যুবক। শিমুল নাটোরের গুরুদাসপুর
শহরের গুরুদাসপুর কর্মকার পাড়ার মৃত নবীন কর্মকারের ছেলে ওই ন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস
(ইসকন) সদস্য। বর্তমানে শিমুল ও তার পরিবার
ঢাকায় বসবাস করেন।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে ১০টার দিকে ‘শিমুল’ নামের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করা হয়। পবিত্র কাবা ও মক্কা শরীফের
অবয়ব সংবলিত ছবিগুলো বিকৃত করা হয়। অভিযুক্তের পোষ্ট করা ছবিগুলো স্থানীয় মুসলিমদের নজরে আসে।
ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে রোববার তারা অভিযুক্তের বাড়ির সামনে দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে মিছিলটি থানার সামনে সমবেত হয়। সেখানে বক্তব্য দেন- আশরাফুল ইসলাম, ইমন ইসলাম ও স্বপ্নিল। তারা অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবী জানিয়ে বলেন, মুসলিম প্রধান দেশে ইসলাম নিয়ে এই ধরণের অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না। ধর্মীয় দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইসকনের সদস্য ওই যুবক ইসলাম নিয়ে এমন পোষ্ট করেছে। অতীতে তাকে ধর্ম নিয়ে নানা ধরণের কটূক্তিমূলক কথা বলতেও শোনা গেছে। তারা ২৪ ঘন্টা সময় বেধে দিয়ে বলেন“ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা না হলে পরবর্তীতে আরো বড় কর্মসুচী ঘোষণা করা হবে। এ সময় ওসি অভিযুক্তকে দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন।
অভিযুক্ত শিমুল ও তার পরিবারের কোন সদস্যকে না পাওয়ায় কোনো বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে প্রতিবেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের শুম্ভু হাওলাদার বলেন, তারা এলাকায় হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে বসবাস করছেন। ইসলাম অবমাননা করে শিমুল নামের ওই যুবকের ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া ঠিক হয়নি। তিনিও ওই পোস্টের নিন্দা জানাচ্ছেন।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, "অভিযুক্তের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সংশ্লিষ্ট পোস্ট ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ইসলাম অবমাননা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াটা খুবই দুঃখজনক। আইন অনুযায়ী অপরাধীর বিচার হবে। ইসলাম ধর্মের লোকজনকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিডি২৪অনলাইন/ সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ