সংসারের জোয়াল বয়ে চলা এতিম ইমরানকে হত্যা

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
১২ মার্চ ২০২৬

বছর দশেক আগে নিজের সুন্নতে খৎনার অনুষ্ঠানের দিনে বাবাকে হারায় ইমরান হোসেন। এরপর অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসাদ চালাতো তার মা। এর মধ্যে ইমরান বড় হয়ে উঠলে বছর খানেক ধরে সংসারের জোয়াল নিজের কাধে তুলে নেয় সে। ভ্যান চালিয়ে উপার্জিত আয়ে খেয়ে, না খেয়ে দিন পার হয়ে যাচ্ছিল তাদের।

 

এদিকে রুটিন কাজ হিসেবে বুধবার বিকালে (১১ মার্চ) ভ্যান নিয়ে বের হয় ইমরান। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে শ্মশানের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। শ্মশানটি জালেশ্বর মন্ডলপাড়া এলাকার।  

 

ইমরান উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের শুকুরভাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে। মা ছাড়াও তার সহোদর দুই বড় বোন রয়েছে। তারা বিবাহিতা।  

 

লাশ উদ্ধারের আগে রাতেই ইমরানের চাচাতো ভাই হেলাল উদ্দিন, একই গ্রামের  বাসিন্দা সুমনকে শক্ত পিটুনি দেয় এলাকাবাসী। এরপর তাদের কাছে থেকে জানা যায়, হত্যার পর ইমরানের লাশ শ্মশানের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

 

এলাকাবাসীর ভাষ্য, বুধবারে (১১ মার্চ) ‘অনেক’ রাত হয়ে গেলেও যখন ইমরান বাড়ি ফিরছিল না, তখন তার হদিসে বের হয় তার স্বজনরা। এরপর জানতে পারে   ইমরানের চাচাতো ভাই হেলালসহ আরও দুজনকে তার ভ্যানে চড়ে যেতে দেখেছে স্থানীয়রা। পরবর্তীতে হেলালকে ও সুমনকে আটক করে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরে পিটুনি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের আটক করে।  

 

এলাকাবাসী ধারণা করছে, ভ্যান মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় তাকে মারপিট ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চাচাতো ভাই হেলালের সঙ্গে ইমরানের পূর্ব বিরোধ বা তার ভ্যান ছিনতাই ঘিরে এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে।   

 

এদিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৩জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা হচ্ছে- ইমরান হোসেনের চাচাতো ভাই হেলাল উদ্দিন ( ৪২), শুকুরভাঙ্গা গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে সুমন পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া উপজেলার  উত্তর মেন্দা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে এজাজুর।

 

পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছে, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ৪ জনের নামে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিজন পলাতক, তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এদিকে হত্যাকান্ডের স্বল্প সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় নিয়ে আসায় পুলিশের প্রশংসা করেছেন অনেকে।

 

 

বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে



মন্তব্য
জেলার খবর