আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ মার্চ ২০২৬

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, আইন অনুসারে সংবিধানে আগে সংস্কার আসতে হবে, সংবিধানে সংশোধন আসতে হবে।

চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রোববারের (১৫ মার্চ) অধিবেশনে সংসদকে এ কথা জানান মন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধান সংস্কারের বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোটের সার্টেন পোরশন কেন আনকন্সটিটিউশনাল ডিক্লেয়ার করা হবে না, সেই মর্মে রুলও জারি করা হয়েছে শুনলাম। এখানে হয়তো জুডিসিয়ারি মতামত দিবে, বাট জুডিসিয়ারির মতামত সভরেন পার্লামেন্টের ওপরে কখনো বাইন্ডিং না। কিন্তু সংসদ এমন কোনো আইন করতে পারে না যা বিচার বিভাগে চ্যালেঞ্জ হয়ে বাতিল বা অসাংবিধানিক হয়ে যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উভয় দিকে লক্ষ্য রেখে বৃহত্তর স্বার্থে আইনানুগভাবে এবং সাংবিধানিকভাবে যেতে হবে উল্লেখ করে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে- মানলাম। আমরা নির্বাচিত হয়েছি সাংবিধানিক ভোটে। নির্বাচন কমিশনের দুইটাই এখতিয়ার। একটা জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, আরেকটা রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। এটা হচ্ছে কনস্টিটিউশনাল ম্যানডেট, যেটা নির্বাচন কমিশন পালন করতে বাধ্য।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, কিন্তু আরেকটা আইন হয়েছে গণভোটের জন্য। এটা আমরাও প্রস্তাব করেছিলাম- যেহেতু আইনি ভিত্তি চেয়েছেন সবাই। ফলে জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে জনগণ কী বলে আমরা দেখি। সেখানে জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে সই হয়েছে, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে যেটা সই হয়েছে। তার ওপর ভিত্তি করে জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে দেশের জনগণ আছে কি, নাই সেই প্রশ্নে গণভোট হওয়া যেতে পারে।  

গণভোট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ব্যালটে গণভোটেহ্যাঁ এবংনা লেখা ছিল। কিন্তু আদেশটা মাঝখানে জারি করে আরেকটা প্রশ্ন ওখানে ইনট্রোডিউস করে দেওয়া হয়েছে, গণভোট দেওয়া হলো চারটা প্রশ্ন। যে প্রশ্নের মধ্যে একটা বিশাল প্রশ্ন জুলাই জাতীয় সনদে সমঝোতা হয়নি। ব্যালটে একটা জবরদস্তিমূলক আরোপিত আদেশ ছিল। তিনি জানান, চারটা ভোট, চারটা প্রশ্ন, সেই প্রশ্নের মধ্যে একটা অ্যানসার দিতে বলা হয়েছে- ‘হ্যাঁ অথবানা কিন্তু চারটা ভোটের চারটা প্রশ্ন থাকা উচিত ছিল- আমরা কোন কোন প্রশ্নেহ্যাঁ বলবো, কোন কোন প্রশ্নেনা বলবো; সেই অপশনও ছিল না। আমি সেই লম্বা বাহাসে যাচ্ছি না।

তিনি বলেন, তারপরও গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, সেই গণভোট আইন অনুসারে- সেই রায় অনুসারে সংবিধানে আগে সংস্কার আসতে হবে, সংবিধানে সংশোধন আসতে হবে। সংবিধানে যদি সেটা আমরা গ্রহণ করি, তারপরে সেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য তখন পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হবে, সেটা তখনকার ব্যাপার হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমি পজিটিভলি যাচ্ছি, আমি কোনো কিছু অস্বীকার করছি না। জনরায়কে সম্মান দিতে হবে, কিন্তু সেটা সাংবিধানিকভাবে দিতে হবে, আইনগতভাবে দিতে হবে। আমি বিরোধীদলের নেতাকে যথেষ্ট সম্মানের সঙ্গে এই প্রস্তাব দিতে চাই যে- আসুন আমরা কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে এই বিষয়ে আলোচনা করি, কখন সংবিধান সংশোধনের জন্য আমরা বিল উত্থাপন করতে পারবো। জুলাই জাতীয় সনদকে আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছি যে জুলাই জাতীয় সনদ ঐতিহাসিকভাবে যেভাবে সই হয়েছে, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে তার প্রতিটি শব্দকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে আরোপিত কোনো আদেশ দিয়ে, কোনো অবৈধ আদেশ দিয়ে সেটা কোনো সংবিধান সংশোধন করা যায় কি না, সেটা একটা বিশাল আইনি প্রশ্ন, সাংবিধানিক প্রশ্ন; সেটাও আমরা ডিবেট করি আলোচনা করি।

 

তিনি বলেন, আমরা কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা করি এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য আমরা বিল উত্থাপন করি। সেই বিল আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে এই মহান হাউসে গ্রহণ করি, তারপরে এই সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এবং ইনশাআল্লাহ আমরা সংবিধান মেনেই পর্যন্ত এসেছি এবং সংবিধান মেনে চলবো।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে

 



মন্তব্য
জেলার খবর