গত
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশের বাজারে
এলপিজির ‘সংকট’ চলছে। ১ হাজার ৫৮৫
টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার
এলপিজি আড়াই
হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সংকট সৃষ্টি করে বড় ধরনের মুনাফা
তুলে নিতে পাঁয়তারা করছে কয়েকটি এলপিজি অপারেটর (কোম্পানি)। দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এ
পাঁয়তারার বিষয়টি উঠে এসেছে।
সরকারের শীর্ষ
পর্যায়ে এ ম্যাসেজ দেওয়ার পর
শনিবার দেশের এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব)
সঙ্গে বৈঠক করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী। বৈঠকের সিদ্ধান্ত
সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
এদিকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী রোববার (৪ অক্টোবর) বিকালে চলতি মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।এ ক্ষেত্রে অপারেটরা এক লাফে বেশি দাম বাড়ানোর পক্ষে বলে আভাস পাওয়া গেছে। দাম নির্ধারণের জন্য এনবিআরের কাছে থেকে এলপিজি আমদানির কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে জ্বালানি বিভাগ ও বিইআরসি। এতে দেখা গেছে, এলপিজি আমদানির জন্য সেপ্টেম্বরে প্রিমিয়াম বাবদ খরচ হয়েছে টন প্রতি ১৮০ থেকে ২০০ ডলার। সৌদি আরামকো সিপি প্রাইসও বাড়িয়েছে। এ সিপি প্রাইস অনুযায়ী বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম নির্ধারণ হয়।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশে চাহিদামতো এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। তাই বৈঠকে লোটাব নেতাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়- তবে কেন সংকট? কেন বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে লোটাব নেতারা জানান, আন্তুর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম অনেক বেশি। তাই এলপিজির দাম বেশি বাড়ানো হলে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসতে পারে।
জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে এলপিজির আমদানি খরচ কিছুটা বেড়েছে। এ সুযোগে এলপিজি মজুত করে রেখেছে অনেক অপারেটর। সরকারি গোয়েন্দা এজেন্সিগুলোর তথ্য অনুযায়ী- আগেভাগে ট্যাংকারে এলপিজি মজুত করেছে অথবা বঙ্গোপসাগরের সীমার কাছে এলপিজির জাহাজ ভাসিয়ে রেখেছে অনেক এলপিজি অপারেটর। তবে এলপিজি মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অপারেটররা। তাদের মতে, আমদানি বিষয়ে এনবিআরের রেকর্ডও আছে। বাজারে এলপিজির সংকট কাটাতে সরবরাহ বাড়াতে হবে। এলপিজির দাম বাড়লে কোম্পানিগুলোর ক্ষতি। কারণ হিসেবে বলছেন, দাম বেশি বাড়লে কম এলপিজি ব্যবহার করেন গ্রাহকরা ।
গোয়েন্দা
প্রতিবেদন অনুযায়ী,
প্রতি মাসে দেড় লাখ টনের বেশি এলপিজি ব্যবহার হয় দেশে। এর সিংহভাগ
আমদানি করে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। এলপিজির বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে ১২ থেকে ১৪টি কোম্পানি। বিইআরসি জানায়, আগস্টে ১
লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০
টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে একই পরিমাণে এলপিজি এসেছে দেশে।
বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে