টাকা ফেরত দিয়ে সাংবাদিক ‘নেতা’র চাঁদাবাজি রফাদফা

পাবনা সংবাদদাতা
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মাছ ধরার জাল ব্যবসায়ীর কাছে থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এক সাংবাদিক ‘নেতা’সহ ৫ জনের একটি চক্র। অবৈধ জাল বিক্রি বিষয়ে আইনিভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে দর কষাকষি করে এ টাকা আদায় করে তারা। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিপদ আসন্ন আঁচ করতে পেরে সেই টাকার অর্ধেক ফেরত দিয়েছেন সেই সাংবাদিক নেতা।

ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার চাটমোহরে। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার ( সেপ্টেম্বর) বিকালে। আর টাকা ফেরত দিয়েছেন চার দিনের মাথায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর)। ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে একজন হাবিবুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি দৈনিক আমার সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি ও চাটমোহর প্রেসক্লাবের নব নির্বাচিত কমিটির প্রচার সম্পাদক। ভুক্তভোগী মাছের জাল বিক্রেতা হলেন নতুন বাজার এলাকার  অর্জণ স্টোরের মালিক সুজন হলদার মধু।

প্রাপ্ত তথ্য বলছে, সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মুধুর জাল কেনাবেচার দোকানে ঢোকে শিমুল বিশ্বাসসহ জন। এরপর অবৈধ জাল বিক্রির ধুয়া তুলে তাকে নানা ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে তারা। আইনি জাল থেকে বাঁচার ফাঁকফোঁকর হিসেবে ৫০ হাজার টাকা তার কাছে দাবি করা হয়। দর কষাকষির পর সেই অংক নেমে আসে ২০ হাজার টাকায়। তাদের ফাঁপরে ভীত হয়ে যাওয়া মধু পরে তাদের হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দেয়। সেই টাকার অর্ধেক নেয় ‘সাংবাদিক নেতা’ শিমুল বিশ্বাস। বাকি টাকা বাকি চার জন ভাগাভাগি করে নিয়ে সটকে পড়েন। তার আগে তারা একটি সিএনজিতে চড়ে সেই দোকানের সামনে এসে নামে অভিযুক্তরা।

এদিকে সাংবাদিকসহ কয়েকজনের চাঁদাবাজির ঘটনাটি এক কান থেকে আরেক কানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাউড় হয়ে যায়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনাটি যেন আইনি পযায়ে না যায়, সে জন্য বসে দরবার। সেখানে আরেক সাংবাদিক নেতাও উপস্থিত ছিলেন। দরবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চাঁদাবাজির ২০ টাকার মধ্যে নিজের নেওয়া  ১০ হাজার টাকা ফেরত দেয় শিমুল বিশ্বাস। সেই সঙ্গে কৃতকর্মের জন্য চেয়ে নেয় মাফ।

 

এদিকে পেশাদার সাংবাদিকদের মতে, সাংবাদিকতায় চাদাবাজি তো দুরের কথা ফাঁপরবাজিরও সুযোগ নেই। নির্মহ ও লোভ পাশ কাটিয়ে সত্য প্রকাশই সাংবাদিকদের দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক ‘নেতা’ কীভাবে চাঁদাবাজিতে জড়ালেন সেটা খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি কী একক সিদ্ধান্তে সেখানে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে গিয়েছিলেন, নাকি আড়ালে এ বিষয়ে অন্য কোনো সাংবাদিক বা সাংবাদিক ‘নেতা’র সম্মতি ছিল- সেটাও জবাবদিহিতার মধ্যে আনা দরকার। 

পেশাদার সাংবাদিকদের মতে, কথিত সাংবাদিকের ফাঁপরবাজি ও আস্ফালনে কোনো রকম ভীত না হওয়া যাবে না। বক্তব্য চাইলে ঘটনা সম্পর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। উল্টাপাল্টা তথ্য সামনে এনে কোনো সাংবাদিক টাকার প্রসঙ্গ তুলে সেটার ভিডিও রেকর্ড রাখতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে আইনের সহায়তা নিতে হবে।   

চাটমোহর প্রেসক্লাবের সাবেক এক নেতা জানান, অভিযুক্ত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবের গঠণতন্ত্র মোতাবেক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।  এদিকে চাটমোহর প্রেসক্লাবের এক নেতার চাঁদাবাজি চাঁদার টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনায় চাটমোহরে কর্মরত সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একইসাথে তার আশ্রয়দাতাদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন তারা।

 

বিডি২৪অনলাইন/সি


মন্তব্য
জেলার খবর