স্থানীয় সরকার নির্বাচন

শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই প্রার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের মধ্যে কোথাও প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা থাকার কথা উল্লেখ নেই। তাই আগামীতে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, তাদেরকে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আর এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সচিবালয়ে  এক ব্রিফিংয়ে  বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। স্থানীয় সরকারের যে পাঁচটি আইন রয়েছে, সেখানে কোথাও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, চেয়ারম্যান পদে দাঁড়ানোর জন্যও কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়র, কাউন্সিলর এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র কাউন্সিলর- সব পদে নির্বাচনের জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় বা প্রয়োজন নেই।

প্রতিমন্ত্রী জানান, একজন সমাজসেবক হয়ত লেখাপড়া নাও করতে পারেন।,স্বশিক্ষিত হতে পারেন।  প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও একজন মানুষ শিক্ষিত হতে পারেন। কোনোদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গিয়েও তার মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান থাকতে পারে। তার মধ্যে যদি জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা থাকে, তাহলে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। কারণে সাংবিধানিকভাবে এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে এমপি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে  ও  স্থানীয় সরকারের এই পাঁচটি আইনেও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার  আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে- কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রে বা পরিষদে বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মে লাভজনক সার্বজনীন পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি অযোগ্য হবেন। এই বিষয়টি ক্ল্যারিফিকেশন করতে গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ, জনবল কাঠামো এমপিও নীতিমালা ২০২৫- বিধি ১১-এর পয়েন্ট ১৭()-তে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সময়ে একাধিক কোনো পদ বা চাকরিতে বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। ১১.১৭()-তে আরও বলা হয়েছে, আর্থিক লাভজনক পদ বলতে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো ধরনের বেতন, ভাতা, সম্মানি এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় বা আইন পেশাকর্মীর বিনিময়ে প্রদত্ত বেতন, ভাতা সম্মানিকে বোঝাবে।

নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করে  উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালাকে এক জায়গায় করে এটি ঠিক করবে যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না। এরপরও যদি নির্বাচন কমিশনের আইনগত কোনো মতামতের প্রয়োজন হয়, অথবা বিষয়টি আরও বিস্তারিত জানার প্রয়োজন হয় কিংবা কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠালে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পরিষ্কার করে দেওয়া হবে।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে

 

 


মন্তব্য
জেলার খবর