রাজশাহীতে সোনালী আলো মাদক নিরাময় কেন্দ্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কেন্দ্রটির পরিচালক মো. ফেরদৌস। সেই সঙ্গে দাবি জানিয়েছেন নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাদিকুল ইসলাম মেজো, দিদার হোসেন ভুলুসহ তার পৈত্রিক সম্পত্তি দখল ও তার উপর হামলায় জড়িতদের।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে রিভার সিটি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০০৯ সাল থেকে তিনি এবং তার পরিবার স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র, বিশেষ করে নওহাটা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ২নং প্যানেল মেয়র দিদার হোসেন ভুলু এবং মো. সাদিকুল ইসলাম মেজোর চরম জুলুম ও ষড়যন্ত্রের শিকার| মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পুলিশি হেফাজতে শারীরিক নির্যাতন করে হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল|
২০১৯ সালে তার গড়ে তোলা সোনালী আলো মাদক নিরাময় কেন্দ্রটি বন্ধ করতে শত শত পুলিশ দিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়| পরবর্তীতে ২০২২ সালে তার পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে নেয় ওই চক্রটি। এর প্রতিবাদ করায় তাকে এবং তার বৃদ্ধা মাকে সিএনজি ও মোটরসাইকেল দিয়ে চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
সাম্প্রতিক
পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গত ২০ জুন
আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসের কর্মসূচি প্রস্তুতিকালীন সাদিকুল ইসলাম মেজোর অনুসারীরা তার স্ত্রী ও সহকর্মীদের ওপর
হামলা ও অপহরণের চেষ্টা
চালায়। এসময় ২৪ জুনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে না গেলে বাড়িতে
আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রশাসনের কাছে বারবার প্রতিকার চেয়েও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানেন| জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় থাকা এ সমাজসেবক ন্যায়বিচার পেতে প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মো. সাদিকুল ইসলাম মেজো বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় আমার বাড়ির পেছনে কয়েকজন গাঁজা সেবন করছিল। আমি তাদের নিষেধ করলে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং মারমুখী আচরণ করে তারা। একই সময় ফেরদৌসের স্ত্রী আমাকে গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়| পরে আমার আত্নীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে তাদের প্রদিবাদ করে এবং নিরাময় কেন্দ্র অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২৪ ঘন্টা সময় বেঁধে দেয়। বুধবার তাদের চলে যাওয়ার কথা।
পবা
থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, মাদকাশক্ত নিরাময় কেন্দ্রে গন্ডগোলের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে
অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে