রাজশাহীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে আসামিদের গ্রেফতারে সাংবাদিক সমাজের বেঁধে দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার বিষয়ে পুলিশ বলছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তারা আত্মগোপনে থাকায় গ্রেপ্তারে সময় লাগছে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় সাংবাদিক ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট ও ক্যামেরাম্যান আবিরের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় শাহমখদুম থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
নগর পুলিশের মুখপাত্রের গাজিউর রহমান জানান, হামলার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানি হওয়ার পর মামলার আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নম্বরও বর্তমানে শনাক্ত বা ট্রেস করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের মুখপাত্র।
নগর পুলিশের মুখপাত্র আরও বলেন, সাংবাদিকের গায়ে যারা হামলা করেছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকার কথাও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের
মানববন্ধন ও ৭২ ঘণ্টার
আল্টিমেটামের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ গাজিউর রহমান বলেন, আপনারা শাহমখদুমের ডিসিকে জানাতে পারতেন, আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানাতে পারতেন— দেখতেন আমি কী ব্যবস্থা নিতাম।
কোনো আসামির অবস্থান বা গ্রেপ্তারে সহায়ক
এমন তথ্য সাংবাদিকদের হাতে থাকলে তা পুলিশকে জানানো
হলে তদন্ত ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায়
সহায়তা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে সাংবাদিক নেতারা বলছেন, হামলার ঘটনার পর প্রায় ১০টি সাংবাদিক সংগঠন একত্র হয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। সেই সময়সীমা পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তাদের প্রশ্ন, আসামিরা আত্মগোপনে থাকলেও তাদের অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান, সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে অভিযান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে—তা আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে