প্রধান শিক্ষক না থাকায় ৪১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত

সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ, গুরুদাসপুর
২৩ জুন ২০২৬


নাটোরের গুরুদাসপুরে ৪১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় সেখানে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।   এতে স্কুল ব্যবস্থাপনা পাঠদান কার্যক্রম খুড়িয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য সুত্রে জানা যায়, ৪১টি নব্য সরকারি মিলিয়ে গুরুদাসপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯০ টি। এর মধ্যে ৪১ টিতে প্রধান শিক্ষক ৩৩ টি সহকারি শিক্ষকের পদ ফাঁকা আছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ১০টি পদ নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে মোট ৭৪ টি পদ শুন্য থাকায় ব্যহত হচ্ছে মানসম্পন্ন পাঠদান এবং স্কুল ব্যবস্থাপনা। শিক্ষক ঘাটতি পুরণে কর্মরত শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন পাঠদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তথ্য আরো বলছে, বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট জরিপ তালিকা অনুযায়ি এসব বিদ্যালয়ে  ২৬ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ৫টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বাড়তি সম্মানী না থাকলেও প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকের শুন্যতায় দায়িত্বরত শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা বহন করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না থাকায় ক্লান্তিবোধ থেকে হতাশায় ভুগছেন অনেকেই।

গুরুদাসপুর শহরের আনন্দ নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাজেদুর রহমান বলেন, সবারই চাওয়া মান সম্মত পাঠদান। কিন্তু স্বল্প শিক্ষক দিয়ে মানসম্মত, যুগোপযোগী আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার প্রসার কতটুকু সম্ভব। তিনি দ্রুত প্রধান সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিতে সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জোনাব আলী  জানান, উপজেলার প্রায় অর্ধেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৩৩ জন সহকারি শিক্ষকের পদ শুন থাকায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের পাঠ পর্যবেক্ষন, পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম, রিপোর্টিং, শিক্ষার্থীদের শৃংখলা নিয়ন্ত্রণ,পরীক্ষা মুলায়ন, মিড ফিডিং কার্যক্রম  এবং স্কুল ব্যবস্থাপনাসহ মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। শুন্য পদগুলিতে নিয়োগের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। নিয়োগ দিলে  সমস্যা কেটে যাবে।

চলমান শিক্ষক সংকট নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন,  এটা সরকারি বিষয়। শিক্ষক সংকট কাটিয়ে উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে যাক এটা তিনিও চান।

 

 

বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে

 


মন্তব্য
জেলার খবর