পঞ্চগড়ের
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরু ও উপজেলার শালবাহান
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের দ্বন্দ্ব প্রকট আকারে রূপ নিয়েছে। এর
ফলে গত চার মাস ধরে ইউনিয়নবাসীর নাগরিক সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ সেবা প্রার্থীরা। দ্রুত সংকট সমাধানে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলছেন, তাদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ নেই। চেয়ারম্যানকে যোগদানের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলার পরামর্শও দেন তিনি।
সম্প্রতি সরজমিন ইউনিয়ন পরিষদে ১২ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত অবস্থানকালে দেখা যায়, পরিষদের সব কয়েকটি রুমে তালা ঝুলছে। নেই চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা। হিসাব রক্ষণ কাম কম্পিউটার অপারেটর, ইউপি সদস্য ও উদ্দ্যোক্তাদের কাউকে চোখে পড়েনি। এ সময়ে নাগরিক সেবা নিতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন অন্তত ১২ থেকে ১৫ জন।
এদের
মধ্যে ভুক্তভোগী চা
শ্রমিক জুলফিকার আলী, সোবাহান আলী, আব্দুস সামাদ,মোশারফের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,
তাদের মধ্যে কেউ এসেছেন
জন্মনিবন্ধন করতে। কেউ কেউ এসেছেন চা শ্রমিকের প্রণোদনা,
হাট-বাজার ইজারা, নাগরিকত্ব সনদসহ গরু বিক্রির অনুমোদন নিতে। কিন্তু পরিষদে দায়িত্বশীল
কেউ না
থাকায় কাজ না করেই বাড়ি
ফিরতে হয়েছে তাদের।
জানা যায়, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে অন্যতম হচ্ছে শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদ। নানান শ্রেনী ও পেশার প্রায় ত্রিশ হাজার জনগোষ্ঠীর বসবাস এ ইউনিয়নে। গতবছরের অক্টোবর মাসে ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুলের সাথে শালবাহান হাট উন্নয়নের বরাদ্দ নিয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে মতবিরোধ শুরু হয় । এর ফলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চেয়ারম্যানের বিরূদ্ধে থানায় মামলার বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে সেই অভিযোগ পাঠায়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক তদন্ত করে আশরাফুলের মামলার সাজা না পাওয়ায় অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হয়। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুলকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখেন। এতে করে গত জানুয়ারি মাস থেকে চেয়ারম্যান নাগরিক সেবার কোন কাগজে স্বাক্ষর করতে পারছে না। এমনকি ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড বুঝিয়ে না দেওয়ায় সেবা দিতে পারছেন না তিনি ।
শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন থেকে আমার বিরূদ্ধে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। মৌখিকভাবে আমাকে ইউএনও সেবা দিতে বিরত রেখেছেন। বার বার মৌখিক নিষেধাজ্ঞার কারন জানতে চেয়েও কোন সদুত্তর পাইনি। আমাকে কোন বহিস্কারের চিঠিও দেওয়া হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহীন খসরু জানান, যোগদানের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে