পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার প্রামানিকপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ, প্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রি ও বৈধ শিক্ষার্থী ছাড়া শাখা খুলে শিক্ষক নিয়োগসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন। এ বিষয়ে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি অনুসন্ধানে জানা যায়, নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য ১০ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। কিন্তু সেই নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করে অর্থের বিনিময়ে মো. মাসুদ ইবনে আলম নামের এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি নিজেকে পঞ্চগড় সদরের শুড়িভিটা দাখিল মাদ্রাসায় তিন বছর খন্ডকালীন শিক্ষকতা করার কথা জানিয়েছেন।
ওদিকে বিদ্যালয়ের ৫০ শতক জমি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক সুনীল চন্দ্র বর্মন বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
২০১৫ সালের ৩ মে কৃষি বিষয়ে সহকারি শিক্ষক পদে নির্মল সরকার যোগদান করেন। কিন্তু অদ্যাবধি তার এমপিওভুক্ত হয়নি। কারণ তার আগে ২০১৪ সাল থেকে ওই পদে মনিরুল ইসলাম বেতনভুক্ত হয়। প্রধান শিক্ষক ১৮ লাখ টাকা নিয়ে বিদ্যালয়ে প্যাটার্ন ছাড়াই শূন্য পদ দেখিয়ে তাকে নিয়োগ দেয় বলে অভিযোগ।
কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে মো. আসাদুল্লাহ ২০২৩ সালের ১ জুনে যোগদান করেন। যথাযথ সনদ না থাকায় তার এমপিওভুক্ত হয়নি এখনো। পরে তাকে ২৩ জানুয়ারী ২০২৩ তারিখ দেখিয়ে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ পদে পুনরায় কোন প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ২০২৩ সালের ৬ জুনে নবীন চন্দ্র বর্মনকে যোগদান করায় প্রধান শিক্ষক। সম্প্রতি তার এমপিওভুক্ত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী গত বছরে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীতে তিনটি করে শাখা এবং নবম ও দশম শ্রেণীতে দুইটি করে শাখা দেখানো হয়েছে। তবে চলতি বছরে ষষ্ঠতে ৭০, সপ্তমে ৭২ ও অষ্টমে ৭৮ জন,নবম ৪৮ ও দশম শ্রেণীতে ৪২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক শ্রেণী শাখার জন্য কৌশলে অবৈধ শিক্ষার্থী দেখায়। বাস্তবে ষষ্ঠ শ্রেণীতে চলতি বছরে ৪২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন সহকারী প্রধান শিক্ষক ও কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর নিয়োগ বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রি বিষয়ে বলেন, ওই জমি প্রতিষ্ঠানের নামে দলিল হওয়ার আগে অন্যখানে বিক্রি করা হয়। এ জন্য প্রতিষ্ঠান হওয়ার আগেই জমি তাকে ফেরত দেওয়া হয়।
বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আইবুল হক বলেন, ওই শিক্ষকের বিষয়ে দপ্তরে কোন অভিযোগ নেই। অভিযোগ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে