দুই কলেজশিক্ষকের কাছে কাফনের কাপড় পার্সেল

সাজেদুর রহমান, গুরুদাসপুর
১২ এপ্রিল ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুরে দুই কলেজশিক্ষকের কাছে আলাদা পার্সেলে কাফনের কাপড় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ পার্সেল দুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে।

ওই দুই শিক্ষক হলেন- শহরের রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ইসলামী শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সামাদ। বৃহস্পতিবার কলেজের ঠিকানায় তাদের নামে পার্সেল দুটি আসলেও রোববার সকালে কাফনের কাপড় পাঠানোর ঘটনা জানাজানি হয়।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার খরখরিয়া এলাকার লিখন হোসেন ভাদাশ এলাকার জনি আহমেদ নামের দুই ব্যক্তি ওই পার্সেল ডাকযোগে পাঠিয়েছে। পার্সেল দুটি খোলার পর প্রত্যেকটিতে তিনটি করে মোট ছয় টুকরো সাদা কাফনের কাপড় পাওয়া যায়।

কলেজটির অফিস সহকারী রাফিজা খাতুন বলেন- ‘বৃহস্পতিবার বিকালে কলেজের ঠিকানায় ডাকযোগে ওই দুই শিক্ষকের নামে দুটি পার্সেল আসে। প্রাপক না থাকায় আমি রিসিভ করে রেখে দেই। রোববার সকালে অক্ষত অবস্থায় তাদের পার্সেল হস্তান্তর করি। পরে জানতে পারি পার্সেলে কাফনের কাপড় ছিলো।

এদিকে দুই শিক্ষক আনোয়ার হোসেন আব্দুস সামাদ বলেন- ‘কাফনের কাপড় পাওয়ার ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত। থানায় জিডি করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। আমরা বিষয়টি গুরুদাসপুর থানাকে অবগত করেছি। ভুক্তভোগী দুই শিক্ষককে আইনি ব্যবস্থা নেবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

কলেজের গভর্নিংবডির সভাপতি প্রফেসর মো. ওমর আলী বলেন,-“ঘটনা জানার পরপরই গভর্নিংবডির সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি কলেজের সভাপতি পরিবর্তন হয়ে তিনি নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরিক্ষর জন্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন আব্দুস সামাদকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের ভয়ভীতি দেখানোর জন্যও পার্সেলটি পাঠানো হতে পারে।

তিনি আরও বলেন- ‘আইনের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। কলেজে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারনেও এটি একটি পক্ষের কারসাজি হতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, কলেজটি নিয়ে নোংরা রাজনীতি চলছে। মাঝেমধ্যেই সভাপতি পরিবর্তন হয়। এতে কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। দিনদিন কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এসব নিয়ে অভিভাবকরাও শঙ্কিত।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুঞ্জুরুল আলম বলেন- ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে

 



মন্তব্য
জেলার খবর