রাজশাহী
মহানগরীতে নাজমা ওরফে ফুচো নামের এক নারী মাদক কারবারিকে আটক ও
চালান দেওয়া নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে আটকের সময় ৪০০ পিস ইয়াবা পাওয়া
গেলেও চালান দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার দিয়ে। এ ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের
এক এসআইয়ের পকেট ভারী হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
নাজমা
ওরফে ফুচো রাজশাহী মহানগরীর পঞ্চবটি এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি নজু’র স্ত্রী। ছেলে, মেয়ে ও জামাইসহ তার পরিবারের সবাই মাদক কারবারের
সঙ্গে জড়িতে।
মঙ্গলবার
(১৯ মে) রাতে বোয়ালিয়া থানাধীন পঞ্চবটির শ্মশানঘাট সংলগ্ন ফুচোর বসতবাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় এ বাড়ি থেকে
ইয়াবার দুই জিপারসহ ৪০০ পিস ইয়াবা, ১ কেজি গাঁজা
ও ৪ পাতা ট্যাপেন্টাডল
ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ফুচো'র বাড়িতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই জাকিরের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানের সময় মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে এসআই জাকিরের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। এ সময় প্রথমে প্রায় দুই লাখ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরে দর কষাকষির মাধ্যমে দেড় লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।
ডিবি এসআই জাকির বলেন, পঞ্চবটিতে নাজমা নামের এক মাদক কারবারির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাত্র ১০পিস ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ তাকে আটক করা হয়। মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একজন নারী মাদক কারবারিকে আটক করেছে শুনেছি। তবে কত পরিমাণ মাদকসহ তাকে আটক করেছে আমি জানি না। আসলে আমি গতকালকে ঢাকায় থাকায় বিস্তারিত জানি না। তবে আমি থানায় গেলে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।
আরএমপি’র মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, “বিষয়টি ইতোমধ্যে আমার নজরে এসেছে। আটক ফুচো নামে ওই নারী একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ধরনের মাদক কারবারিরা সাধারণত নিজেদের বাসায় অধিক পরিমাণ মাদক সংরক্ষণ করে না। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিবি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে