৯৫ শতাংশ চিনিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুলাই ২০২৬


দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট-সয়াবিন তেলের পর এবার  ৯৫ শতাংশ চিনিতেই  মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি কেজি চিনিতে ২১০ থেকে ৫০৮টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে নিয়মিত এসব কণা গ্রহণ করছে মানুষ। এ মাইক্রোপ্লাস্টিক দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

 

নতুন এক গবেষণায় চিনিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণাটি সম্প্রতি Journal of Food Composition and Analysis-এ প্রকাশ হয়েছে।  ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে  সাত ধরনের ব্র্যান্ডেড ও খোলা চিনি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয় গবেষণায়।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ব্র্যান্ডেড কোম্পানির চিনিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৩২২টি রয়েছে। এর বাইরে খোলা চিনিতে গড়ে ৪০৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। খোলা চিনিতে দূষণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হলেও দুই ধরনের চিনির মধ্যে পরিসংখ্যানগত উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া কণাগুলোর আকার ১২ মাইক্রোমিটারের কম থেকে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ ছিল ফাইবার, ২১ শতাংশ ফ্র্যাগমেন্ট, ১১ শতাংশ ফিল্ম এবং প্রায় ৫ শতাংশ  গোলাকার।

এতে এফটিআইআর (FTIR) স্পেকট্রোস্কপি বিশ্লেষণে এবিএস (ABS), পিভিসি (PVC), পিইটি/পিইটিই (PET/PETE), পিটিএফই (PTFE), পলিকার্বোনেট (PC), সেলুলোজ অ্যাসিটেট (CA), এইচডিপিই (HDPE), ইভিএ (EVA) ও নাইলনসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। চিনি উৎপাদন, পরিশোধন, প্যাকেজিং, পরিবহন ও সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত প্লাস্টিক উপকরণ এবং পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক কণার মাধ্যমে এ দূষণ ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষণায় বলা হয়েছে,  একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন শুধু চিনি থেকেই প্রতি কেজি শারীরিক ওজনের বিপরীতে গড়ে ০.২১৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্লাস্টিকের জন্য হ্যাজার্ড-টু-কনসেন্ট্রেশন (Hazard-to-Concentration Ratio) ৭.১ থেকে ১৭.১৬-এর মধ্যে পাওয়া গেছে, যা কয়েকটি পলিমারের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।  গবেষণায় সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকির মাত্রা নির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর