গ্যাস সংকটে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জুলাই ২০২৬


হঠাৎ করেই তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে দেশে। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকায়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও শিল্পকারখানায়। বাসাবাড়িতেও দিনের বড় একটি সময় গ্যাস না থাকায় রান্না নিয়ে রীতিমতো ভোগান্তিতে পড়ছেন মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশের চলমান গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। তিনি জানান, একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়েছে। ফলে  গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি কার্গো খালাস সম্ভব হবে না।

এদিকে ঢাকায় বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কোথাও সীমিত পরিসরে সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে। সেসব স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে  সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাব ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেকেই গ্যাস পাচ্ছেন না, এতে  দৈনিক আয় কমে গেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ না থাকায়  অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে রান্নার জন্য বৈদ্যুতিক হিটার, ইনডাকশন চুলা কিংবা এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। এতে তাদের সংসার খরচে বাড়তি ব্যয়ের চাপ বাড়ছে।

ওদিকে গ্যাসের স্বল্পচাপের প্রভাবে অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। কোথাও সীমিত পরিসরে উৎপাদন চললেও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি  জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলো থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের  গ্রাহকরা গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপের মুখে থাকবেন।

 

বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর