রাষ্ট্রমালিকানাধীন ৪টিসহ লোকসানে ২২ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ অক্টোবর ২০২৬


দেশে থাকা ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে ২২টি। এর  মধ্যে চারটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক। গত  মার্চ পর্যন্ত এসব ব্যাংকের মোট পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ২ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর আয়ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে উচ্চ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রভিশনিং, মূলধন ঘাটতি ও দুর্বল সম্পদমান। ফলে পরিচালন পর্যায়ে মুনাফা থাকলেও বিভিন্ন সমন্বয়ের পর  নিট লোকসানে চলে যাচ্ছে অনেক ব্যাংক।

অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে লোকসান সংক্রান্ত তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে পুরো ব্যাংক খাতে পরিচালন মুনাফা থাকলেও প্রভিশনসহ বিভিন্ন ব্যয় সমন্বয়ের পর নিট লোকসান হয়েছে ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে লোকসানে থাকা  চারটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো- জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে  কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক লোকসানে রয়েছে। বিদেশি ব্যাংক হিসেবে এ পরিস্থিতিতে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ।

বেসরকারি খাতের মধ্যে রয়েছে- এবি, বাংলাদেশ কমার্স, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আইসিবি ইসলামিক, আইএফআইসি, ইসলামী, মেঘনা, ন্যাশনাল, গ্লোবাল ইসলামী, পদ্মা, সীমান্ত, সোশ্যাল ইসলামী, দি প্রিমিয়ার ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

প্রতিবদেন অনুযায়ী, গত মার্চ ভিত্তিতে ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফা ছিল ৭৮৯ কোটি টাকা। তবে উচ্চ শ্রেণিকৃত ঋণ, খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ, মূলধন ঘাটতি এবং দুর্বল সম্পদমানের কারণে পরিচালন পর্যায়ের মুনাফা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে নিট লোকসানে ।

বর্তমান লোকসানের কারণে হিসেবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে অনিয়ম ও দুর্নীতিকে দুষছেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান। গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছে, এ কারণে ব্যাংক খাতে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেটা দ্রুত দূর করা সম্ভব নয়।  তবে পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কমিটিকে জানিয়েছে, লোকসানে থাকা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১২টি ব্যাংকের ৯টিই আওয়ামী লীগ সরকারের নেতা ও তাদের অনুগত ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এসব ব্যাংকে ব্যাপক অনিয়ম এবং ঋণের নামে অর্থ বের করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

এদিকে ব্যাংক খাতে অনিয়মের প্রভাব পড়েছে খেলাপি ঋণের উপরেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত ৩০ জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা। এটা মোট ঋণের প্রায় ৩৩ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ২২টি ব্যাংক লোকসানে থাকা মোটেও ভালো খবর নয়। ব্যাংক খাতের স্বাস্থ্যের অন্যতম সূচক হচ্ছে খেলাপি ঋণের হার। সে হিসাবে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঋণ খেলাপি রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের এক-তৃতীয়াংশের বেশি লোকসানে রয়েছে।  ফলে কিছু ব্যাংকের কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থার সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলেও ধারণা তাদের।

ওদিকে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত ১৫টি ব্যাংক ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণ করতে পারেনি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা নিয়েছে ১২টি ব্যাংক।

 

বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর