চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীদের অ্যালামনাই সংগঠন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পৃথক বিবৃতিতে জাপান, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে ও জার্মানিতে অবস্থানরত চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানান।
অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব গ্রহণের ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত থেকেই চুয়েট ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে উঠে। হল ছেড়ে ক্যাম্পাসে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন। একই দাবিতে শিক্ষক সমিতিও মানববন্ধন করেছে।
চুয়েট জাপান অ্যালামনাইয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যে গবেষণা কার্যক্রম, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা, দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণা সহযোগিতা, উচ্চতর গবেষণার সুযোগ, উদ্ভাবনী প্রকল্প ও সেমিনারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অধ্যাপক সায়েমের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয় তারা লক্ষ্য করেছেন।
বর্তমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সংগঠনটি উপাচার্য নিয়োগ ও অপসারণের সিদ্ধান্তের কারণ, প্রক্রিয়া ও যৌক্তিকতার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। একই সঙ্গে, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়া অ্যালামনাইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা চুয়েটের অ্যাকাডেমিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তারা উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া ও কারণ স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে অধ্যাপক সায়েমকে পুনরায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা, শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং চুয়েটের অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীদের বিবৃতিতে অধ্যাপক সায়েমের অপসারণে হতাশা প্রকাশ করে জানানো হয়, তার দায়িত্বকালে গবেষণা, শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে তারা আশাবাদী ছিলেন।
বর্তমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তারা উপাচার্য নিয়োগ ও অপসারণের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেন। একই সঙ্গে অধ্যাপক সায়েমকে অবিলম্বে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, তাকে পুনর্বহাল করা না হলে চুয়েট ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে ওঠা গবেষণা সহযোগিতা, আর্থিক সহায়তা ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
নরওয়ে অ্যালামনাইয়ের বিবৃতিতে বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি অধ্যাপক সায়েমকে অপসারণের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
তারা উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অ্যালামনাইসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত বিবেচনার দাবি জানানো হয়।
জার্মানি অ্যালামনাইয়ের বিবৃতিতে বর্তমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি জানানো হয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, অধ্যাপক সায়েমকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অপসারণ করা হয়েছে।
তাদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— অধ্যাপক সায়েমের পুনর্বহাল, অ্যাকাডেমিক ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি সম্মান দেখানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে মেধা, যোগ্যতা ও ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
এদিকে, উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমও ক্যাম্পাসে ফেরেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানান।
চুয়েটের উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে