দফায়
দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে দেশের সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে বর্তমান সরকার । জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর
প্রতিবাদে দেওয়া এক বিবৃতি
এ
কথা বলছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ওই বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ । নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মানুষকে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়ানোয় জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি হবে এবং দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু মোটরযান ব্যবহারকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জ্বালানি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উপাদান। তাই জ্বালানির দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন, কলকারখানার উৎপাদন ব্যয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ বেড়ে যায়। ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ে। শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বহন করতে হয় সাধারণ জনগণকেই।
তাই জামায়াতে ইসলামী মনে করে সরকারের উচিত ছিল জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার দায় সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই জনকল্যাণমূলক নীতি হতে পারে না বলে জানিয়েছে দলটি।
জ্বালানি
তেলের দাম বাড়ানোর আগে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যয় সংকোচন, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ,
জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
বলা হয়, বাজারে
পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট ও অনিয়ম বন্ধ
করতে হবে। শুধু মূল্য বাড়িয়ে সরকারি সংস্থার আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক
প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়বে। তাই সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর
সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে বিরোধী দল।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে