বিদ্রোহীদের ঠেকাতে চায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের  কোন্দল সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ ক্ষমতাসীন দল বিএনপির। এ নির্বাচনে ভোটব্যাংক যাতে ভাগ হয়ে না যায়, সেজন্য বিদ্রোহী প্রার্থীর ঝুঁকি এড়াতে চায় দলটি। জয় নিশ্চিতের জন্য একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে  সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে  স্থায়ী বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্তও  নেওয়া হতে পারে।

 

দীর্ঘ এক দশক পর অপেক্ষাকৃত মুক্ত নির্বাচন হতে যাওয়ায় তৃণমূলের হাজার হাজার নেতা স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী।  এমন অবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ভোট ভাগাভাগি ঠেকাতে বহুমুখী প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে একক প্রার্থীর পেছনে কয়েকটি রাজনৈতিক কৌশলগত কারণ রয়েছে। ভোট ভাগাভাগি ঠেকানো অন্যতম কারণ। এছাড়া  নির্দলীয় প্রতীকবিহীন নির্বাচন হওয়ায় দল থেকে একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকলে বিভ্রান্তিতে পড়তে পারে ভোটাররা। সে ক্ষেত্রে দলীয় এক প্রার্থী থাকলে দলের মূল ভোটব্যাংক এক জায়গায় থাকবে। দ্বিতীয়ত, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ন্ত্রণ। একাধিক নেতাকর্মী প্রার্থী হলে দলের ভেতরে উপদল গ্রুপিং তৈরি হয়। এতে ভোটের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সাংগঠনিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে অধিকাংশ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে।  পাশাপাশি এনসিপিও শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটের মাঠে এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে জয়ী হতে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দলের সমর্থিত প্রার্থী বাছাইয়ে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে জনপ্রিয়তা সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতাকে। পাশাপাশি সাংগঠনিক সক্রিয়তা ত্যাগও বিবেচনায় নেওয়া হবে।  তবে কেন্দ্র থেকে জোর করে প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হবে না। প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা জেলার নেতাদের ওপর। তারা  জরিপ চালিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠাবেন। এ ক্ষেত্রে জেলা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে সমন্বয় সেল গঠন করা হতে পারে। এ সেল মুলত তৃণমূলের কোন্দল বা বিরোধ নিরসনে কাজ করবে।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর