নাটোরের
গুরুদাসপুরে অনুমোদনহীন একটি মিনি পেট্রোল পাম্পসহ তিনটি
দোকান ও দুটি বসতবাড়ি
পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে
উপজেলার নাজিরপুর
বাজারের গোডাউন মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও প্রাথমিকভাবে
প্রায় ৩০ লাখ টাকার
ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজিরপুর বাজারের মেসার্স নুরু এন্টারপ্রাইজ নামে অনুমোদনহীন একটি মিনি পেট্রোল পাম্পের ট্যাংক মেরামতের কাজ চলাকালে আগুন লাগে। দাহ্য পদার্থ থাকায় মুহূর্তেই তা পুরো পাম্পে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখান থেকে আশপাশের দোকান ও বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
গুরুদাসপুর
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. রুস্তম আলী বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পেট্রোল পাম্প স্থাপিত হলেও তার কোনো ফায়ার অনুমোদন নেই। আগুন লাগার খবরে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরে নাটোর ফায়ার সার্ভিসের আরেকটি ইউনিট যোগ দেয়।
তিনি আরও জানান, আগুনে মুদি, কীটনাশক ও জুয়েলারী দোকান এবং দুটি বসতবাড়ি পুড়ে যায়। দোকানের মালামাল ও ঘরের আসবাবপত্র সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে পাম্পের মালিক নুরুল ইসলাম কিংবা তার কোন প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি।
নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ুব আলী বলেন, পেট্রোল পাম্পটির কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে মালিক নুরুল ইসলাম ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।
চেয়ারম্যান আরো জানান, আগুনে মোস্তফার মুদি দোকান, রেজাউল করিমের স্বর্ণের দোকান, সেলিমের কীটনাশকের দোকান এবং মামুন হোসেন ও মোশারফ হোসেনের দুটি বসতবাড়ি পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন, "আমার মুদি দোকান পুরোপুরি পুড়ে গেছে। সব হারিয়ে এখন পথে বসেছি।"
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির কর্তারা অভিযোগ করেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে পেট্রোল পাম্প পরিচালনার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা ক্ষতিপূরণ ও পাম্প মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেন।
নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আক্তার হামিদ খান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে ঘটনার পর পাম্প মালিকের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে