রাজশাহীতে কেমিক্যালে পাকছে কাঁচা আম

ইব্রাহিম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী
০৮ মে ২০২৬

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অধিক মুনাফার আশায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ফড়িয়া কাঁচা আম সংগ্রহ করে কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে বাজারজাত করছেন। এতে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত আমচাষিরা, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

সরেজমিনে শুক্রবার ( মে) বাঘা উপজেলার বালিহার, আড়পাড়া আশপাশের কয়েকটি আমবাগান ঘুরে দেখা যায়, অনেক বাগানের গাছ থেকে আম সংগ্রহ  চলছে। অধিকাংশ আম এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে পরিপক্ব হয়নি। তারপরও ভোর থেকে বিভিন্ন বাগানে শ্রমিক দিয়ে আম নামানো হচ্ছে। সেই আম দ্রুত ভ্যান ছোট যানবাহনে করে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পৌর এলাকার বালিহার এলাকায় ভ্যানগাড়িতে আম বহন করতে দেখা যায় মো: আমজাদ নামে এক ব্যবসায়ীকে।  তিনি বলেন, “এগুলো গুটি জাতের আম। আচার তৈরির জন্য ঢাকা পাঠানো হবে।একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে মীরগঞ্জে, সেখানে  আলাউদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী জানান, “গুটি আম পাড়তে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, “আচারের আমবলে যে আম পাঠানো হচ্ছে, তার বড় একটি অংশই  কেমিক্যাল কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করে পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়।  মৌসুম শুরুর আগেই বেশি দামে  বিক্রির জন্য একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় কয়েকজন চাষি বলেন,  বাজারে নিম্নমানের আম প্রবেশ করলে রাজশাহীর আমের সুনামও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বাঘা বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, প্রশাসনিকভাবে এখনও আম বেচাকেনার আনুষ্ঠানিক অনুমতি না থাকলেও গোপনে কিছু আম ঢাকার পাইকারদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। প্রকাশ্যে বাজার না বসলেও বিভিন্ন আড়তে রাতের আঁধারে লেনদেন চলছে।

 

ফড়িয়া ব্যবসায়ী দেলশাদ বলেন, “ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার এখনও প্রকাশ হয়নি। তাই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে না। কিন্তু অনেকে আচারের কথা বলে গোপনে আম সরবরাহ করছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া, মাটির ধরণ এবং আমের পরিপক্বতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবছর জেলা প্রশাসনম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডারপ্রকাশ করে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে অপরিপক্ব কেমিক্যালযুক্ত আম বাজারজাত বন্ধ রাখা এবং নিরাপদ আম নিশ্চিত করা। গত কয়েক বছর ধরে রাজশাহীতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আম সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়ে আসছে প্রশাসন। চলতি বছরও ১০ মে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে আম পাড়ার সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর রাজশাহীতে ১৫ মে থেকে গুটি আম পাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া ফজলি আম বাজারজাতের সময় নির্ধারণ করা হয়। প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের আগে আম নামালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, “ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার প্রকাশের আগে আম পাড়া সম্পূর্ণ অবৈধ। কেউ অপরিপক্ব আম পেড়ে কেমিক্যাল ব্যবহার করে বাজারজাত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মি আক্তার বলেন, “এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে কৃষি বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “আগামী ১০ মে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে আম পাড়ার সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। এর আগে আম নামানো প্রশাসনের নির্দেশনার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর