দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানি নিয়ে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেই শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব ধরণের জ্বালানির (ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রল) নতুন দাম ঘোষণা সরকার। নতুন দরে সর্বনিম্ব ১৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ২০ টাকা পযন্ত বেড়েছে দাম। দেশে মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৬৩ শতাংশই ডিজেল। তাই ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব গণপরিবহন এবং কৃষি খাতে পড়ার আশঙ্কা করছে সাধারণ মানুষ।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রল ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দর রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। দাম বাড়ানোর আগে ডিজেল ৯৯ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা এবং পেট্রল ১১৬ টাকা ছিল প্রতি লিটার। ডিজেলের দাম বেড়েছে ১৫ শতাংশ।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছিল এ দর। এবার ১১৫ টাকা নির্ধারণের মাধ্যমে আগের সেই রেকর্ড ভেঙে গেছে।
এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় তেলের চাহিদা হঠাৎ ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। তবে জ্বালানি তেল প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাজারে যে অস্বাভাবিক চাহিদা দেখা যাচ্ছে সেটা যৌক্তিক নয়। মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিপিসির হিসাবে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন ডিজেল মজুত আছে। এর সঙ্গে পথে থাকা আরও জাহাজে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল যুক্ত হবে। এছাড়া পেট্রল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। রোববার থেকে দৈনিক ডিজেলের সরবরাহ ১১ হাজার ১০৭ টন থেকে বাড়িয়ে ১৩ হাজার ৪৮ টন এবং অকটেনের সরবরাহ ১ হাজার ১২৯ টন থেকে বাড়িয়ে আরও ২৩৭ টন করার কথা রয়েছে।
বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে