ডিলার ও কৃষি অফিসের সিন্ডিকেটে বেকায়দায় কৃষক

সম্রাট হোসাইন, পঞ্চগড়
৩০ নভেম্বর ২০২৫

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বিসিআইসি বিএডিসির সার ডিলার কৃষি অফিসের সিন্ডিকেটে রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছেন কৃষক। শুধু তাই নয় ডিলার নিয়োগ ও সার কেনাবেচায়ও চরম অব্যবস্থাপনার খবর পাওয়া গেছে। এতে কৃষকেরা ডিলারদের কাছে গিয়ে সরকার নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে এ বিষয়ে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলায়  নির্ধারিত বাজারে কোনো সারের ডিলারের দোকান নেই। এক এলাকার লাইসেন্স ভাড়ায় নিয়ে চলছে অন্য এলাকায় সার সরবরাহ। এমনকি জেলার বাইরের বাসিন্দাকেও দেওয়া হয়েছে সারের ডিলার নিয়োগ। আর এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে খোদ কৃষি কর্মকর্তারা জড়িত। ফলে সার ব্যবস্থাপনার ওপর কোনো নজরদারি নেই। নীরবে চলছে কৃষি খাতে সিন্ডিকেট বাণিজ্য, আর এতে জিম্মি হয়ে পড়ছেন কৃষক।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সারের ডিলারের নির্ধারিত বাজারে দোকান না থাকায় যেতে হয় ১০-১২ কিলোমিটার দুরে। সেখানে সার ক্রয় করতে গিয়েও নানা সমস্যায় পড়ছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের পাল্টাপাড়ায় মেসার্স রাইসা ট্রেডার্সের সার দোকান হওয়ার কথা থাকলেও, তার দোকানটি সেখানে পাওয়া যায়নি। লাইসেন্সটি ভাড়া দিয়েছেন ফকিরগঞ্জ বাজারের মেসার্স আব্দুর রহমানকে। এভাবে মেসার্স সানজিদা ট্রেডার্স নামের লাইসেন্সটি দিয়ে ফকিরগঞ্জ বাজারের মেসার্স বকুল ট্রেডার্স, মেসার্স জয় এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সটি দিয়ে ছোটদাপ এলাকার মেসার্স খলিলুর রহমান কাযক্রম চালাচ্ছে। মেসার্স জননী কৃষি বিতান বটতলী বাজারে দোকান থাকার কথা। কিন্তু তার দোকান বোদা বাজারে। যদিও তাদের দাবি, সেটা আটোয়ারী উপজেলায় রয়েছে। তবে ডিলারের প্রোপাইটর মেরাজুল ইসলামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলা সদরের দ্বারাজগাঁও এলাকায়। শুধু মেরাজুল নয়, রাণীগঞ্জ বাজারের ডিলার মেসার্স প্রতীক ট্রেডার্সের প্রোপাইটর হুসেন আলী মিয়ার বাড়িও ঠাকুরগাঁও জেলার ঢোলারহাট এলাকায়।

সার ডিলার নিয়োগ সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০০৯ বলা আছে, জেলার বাইরের কোন বাসিন্দাকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না। উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতিত অন্য কোন কারণে ডিলারশীপ হস্তান্তর যোগ্য হবে না।

উপজেলার বিসিআইসি বিএডিসির মোট ৩১ টি সার ডিলার লাইসেন্স থাকলেও নির্ধারিত স্থানে হাতে গোনা কয়েকজন ডিলার ছাড়া, বাকি সব ডিলারের দোকান উপজেলার ফকিরগঞ্জ বাজারে। এতে সার পেতে ভোগান্তিসহ কৃষককে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।

পাল্টা পাড়া এলাকার কৃষক সফিকু্ল ইসলাম বলেন, বাজারে কয়েকজন সার ডিলার থাকার কথা থাকলেও কেউ নেই। সার আনতে হয় ফকিরগঞ্জ, রুহিয়া, লাহিড়ী বাজার থেকে। এতে বস্তায় প্রায় ৪০০-৫০০ টাকা বেশি খরচ গুনতে হচ্ছে।

তৌহিদ বলেন, লীলার মেলা বাজারে আব্দুল্লাহ এন্টার প্রাইজ মেসার্স ভাইবোন ট্রেডার্স নামে দুইজন সার ডিলারের দোকান থাকার কথা। কিন্তু এখানে কোনো দোকান নেই। সম্প্রতি আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের সার উত্তোলন করে ট্রাকটি লীলার মেলা বাজারে আনা হয়। কিন্তু সার না দিয়ে ফকিরগঞ্জ বাজারের দিকে চলে যায়।

মেসার্স জননী এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মেরাজুল ইসলাম জানান, তার ভোট ঠাকুরগাঁও এলাকায়। তবে তিনি আটোয়ারীতে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান করেন। প্রতিক ট্রেডার্সের প্রোপাইটর হুসেন আলী মিয়া তার বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করেন। রাইসা, সানজিদা জয় এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও অন্য ডিলারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি স্বীকার করেন।

আটোয়ারী উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে অফিসার মোস্তাক আহমেদকে না পেয়ে দুইদিনে মুঠোফোনে বারবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি তাকে।

 

 

বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে



মন্তব্য
জেলার খবর