চালু হচ্ছে পাইলট প্রকল্পের ফ্যামেলি কার্ড কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ মার্চ ২০২৬

 

পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে  সরকার। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার  বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে  এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।  প্রথম ধাপে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারী প্রধান পরিবার এ কার্ড পাবেন।

সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন,  নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামে এ কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের ৫ জন সদস্য সুবিধা পাবেন। যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে সেই সব বিদ্যমান সুবিধা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অন্যান্য ভাতা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলটিং পর্যায়ে এ কার্ডের আওতায় উপকারভোগীরা মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। পরবর্তীতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

কার্ডের তালিকা প্রণয়ন সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়,  এ বিষয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, ব্যবহৃত গৃহস্থালি সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল), রেমিট্যান্স প্রবাহসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। পাইলট পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া যায়। এরপর একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নেওয়া, সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী ইত্যাদি বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগী নির্বাচনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

জাহিদ হোসেন বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে কোন পরিবারের কোন সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন, ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবার প্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে এ কার্ডের জন্য বিবেচিত হবে না। এছাড়াও কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে এ কার্ডের জন্য বিবেচিত হবেন না।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে

 



মন্তব্য
জেলার খবর