আগামীতে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে চাপ সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সরকারি চাকুরেদের নতুন পে-স্কেল প্রদান, দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতার কারণে এ ঝঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া বর্তমানে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে মূল্যস্ফীতির হার। এমন পরিস্থিতিতে নীতি সুদের হার না কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিষয়ক কমিটির বৈঠকে এমন আশঙ্কা প্রকাশের পাশাপাশি এ সিদ্ধান্ত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠকে গভর্নর ও মুদ্রানীতি কমিটির সভাপতি মুস্তাকুর রহমান সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে জ্বালানি উপকরণের দাম এখনো আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীল। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সরকারি চাকুরেদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হচ্ছে। সেই সঙ্গে চলতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এসব বিষয়ের কারণে আগামীতে মূল্যস্ফীতিতে চাপ তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এমন অবস্থায় বর্তমানে নীতি সুদের হারে কোনো পরিবর্তন আনার আগে দেশের অর্থনীতি বিশেষ করে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ওপর তীক্ষণ নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অর্থনীতিতে সম্ভাব্য আঘাত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এ কারণে আপাতত নীতি সুদের হার কমানো হবে না, অপরিবর্তিত রাখা হবে।
বৈঠকে সাম্প্রতিক দেশীয় ও বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে মুদ্রানীতি কমিটি। এতে দেখা যায়, দেশের মূল্যস্ফীতির হার এখন নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনও বেশি। চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগস্টে এ হার পয়েন্ট টু পয়েন্ট হিসাবে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। পুরো এক বছরের হিসাবে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
গত ৩১ জুলাই নীতি সুদ ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশে নামিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত বিনিয়োগ বাড়ানো ও সুদের হার কমানোর জন্যই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় তখন। ফলে ইতোমধ্যে সুদের হার কিছুটা কমতে শুরু করেছে ব্যাংক ঋণের।
এদিকে ঋণের সুদের হার বারবার কমানোর দাবি করে আসছেন উদ্যোক্তারা । তাদের হিসাবে, সুদ না কমালে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন দাবিতে নীতি সুদের হার কিছুটা কমানো হয়। কিন্তু এখন মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সুদ হার ফের কমাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রাপ্ত
তথ্যমতে, জ্বালানি তেলের
দাম বাড়ানোর কারণে অর্থনীতির সব খাতে উৎপাদন খরচ বাড়বে। উৎপাদন খরচ বাড়লে পণ্যের দামও বাড়বে। এতে বাড়বে
মানুষের জীবনযাত্রার
খরচ। তাছাড়া পে-স্কেল দিয়ে
সরকারি চাকুদের
বেতন-ভাতা বাড়ানোর কারণে বাড়বে বাজারে টাকার প্রবাহও। এর বড় অংশই
যাবে অনুৎপাদনশীল খাতে। পাশাপাশি রাজস্ব আয় দুর্বল হওয়ায়
ঋণনির্ভরতা বাড়তে পারে সরকারের । এতে আগামীতে
মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যেতে পারে।
বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে