বিদ্যুতের
দাম বাড়ানোর পর থেকেই বেশি আসছে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল। গ্যাস সংকটের কারণে বেড়েছে জ্বালানি খরচ। গ্যাসসহ
নানা সংকটে বন্ধ হচ্ছে ছোট ছোট উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এতে বাড়ছে বেকারত্ব, কাজের বাজারও মন্দা। কর্মসংস্থানের
অভাবে নতুন করে চাকরিও
জুটছে না। এর মধ্যে সব ধরণের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে লিটার প্রতি ২০ টাকা।
এতে বেড়েছে নিত্যপণ্যের
দাম ও যাতায়াত ভাড়া।
সব মিলিয়ে আগের চেয়ে খরচ
বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ। শুধু সংসার খরচেই নয়, খরচ বেড়ে
যাওয়ায় চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ নিয়েও
বিপাকে পড়েছেন তারা।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, জীবনযাত্রার দৈনিক খাতের বেশিরভাগগুলোতে ব্যয় বাড়লেও সীমিত আয়ের মানুষসহ বেশিরভাগ মানুষের কাছে আয় বাড়ানোর বিকল্প উৎস নেই। ফলে তাদের যাপিত জীবন একরকম বিষিয়ে উঠছে। আর্থিক সংকট কাটাতে মানুষ একসময় গ্রাম থেকে শহরে আসলেও সময়ের পরিক্রমায় সেই দৃশ্যপট পালটে যাচ্ছে। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় গত ৫ বছর ধরে গ্রামে ফিরে যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে সরকারি এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ প্রভাবে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি নানামুখী চাপে পড়বে। শিল্প পরিচালনায় উৎপাদন খরচ বাড়বে বহুগুণ। কৃষকের সেচ খরচ বাড়বে। একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, অপরদিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরো কমে যাবে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত অর্থনীতিকে আরো বাধাগ্রস্ত করবে। এককথায়, ধনী থেকে দরিদ্র-সবার জীবনে কমবেশি এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এটি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে বড় ধাক্কা বলেও মনে করছেন তারা।
অর্থনীতিবিদরা
আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে ডিজেলনির্ভর অর্থনৈতিক কার্যক্রমে। কেননা ডিজেল সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে জড়িত। কৃষি,
গণপরিবহন, পণ্য পরিবহনসহ অর্থনীতির প্রায় সব খাতের সঙ্গে
এর ব্যবহার জড়িত। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে উৎপাদন খরচ—সব ক্ষেত্রেই এর
প্রভাব পড়বে। তবে ঘাটতি বা লোকসান সামাল দিতে
মূল্য না বাড়িয়ে তেমন কোনো বিকল্পও ছিল না বলেও মনে করছেন অনেকে।
এদিকে
দেশে
প্রতি বছর চিকিৎসার পেছনে খরচ করতি গিয়ে অনেক
মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়েছে। এ সংখ্যা প্রায় ৫০
লাখের মতো বলে জানা গেছে। চিকিৎসার
জন্য অনেকেই বাধ্য হয়ে ঋণ নিচ্ছে বা
সুদের টাকায় চিকিৎসা চালাচ্ছে। পরে সেই টাকা শোধ করতে গিয়ে জমিজমা বিক্রি করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তাছড়া টাকা খরচ করেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা মিলছে না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়ছে।
ওদিকে
সন্তানদের পড়াশোনার
খরচ জোগাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের অভিভাবকরা। স্কুলের বেতন, কোচিং, প্রাইভেট টিউটর, বই—সব মিলিয়ে
খরচ বেড়েছে ৬০-৯০ শতাংশ
পর্যন্ত। বেসরকারি এক গবেষণা বলছে,
বর্তমানে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী কোনো না কোনো পর্যায়ে
ঝরে পড়ছে, যার অন্যতম কারণ দারিদ্র্য। ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার পেছনে গড় খরচ বেড়েছে
প্রায় ৮০ শতাংশ। এমনকি
দেশের প্রায় ৭ শতাংশ পরিবার
সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ঋণ নিতে বাধ্য
হচ্ছে।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে