পাবনার
চাটমোহরে কথিত ‘ছেলে ধরা’ সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক
করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা। এ সময় তার কাছে থেকে আনুমানিক ৪/৫ বয়সী এক
শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে
অনেকের- যাদের পরিবারে কম বয়সী শিশু সন্তান রয়েছে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত
হচ্ছেন- গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি
উপজেলার পূর্ব খাটিয়াবাড়ি গ্রামের ফজল প্রামানিকের ছেলে খোরশেদ প্রামানিক। তিনি মানসিক রোগী, সম্প্রতি তাকে চাটমোহর রেলস্টেশন এলাকায়
দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগী
শিশুটি চাটমোহর উপজেলার
অমৃতকুন্ডা গ্রামের সেন্টু দাসের ছেলে। শিশুটিকে যখন তার বাড়ি থেকে নিয়ে আসা হয়, তখন সে খেলা করছিল।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দোলং এলাকায় খোরশেদকে আটক করে স্থানীয়রা। ওই এলাকা দিয়ে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পথে শিশুটি কান্নাকাটি করছিল। বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়দের। তারা খোরশেদের পথ রোধ করে ও কান্নারত শিশুটির সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকনে। এ সময় অভিযুক্তের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়া যায়। এরপরই কথিত ‘ছেলে ধরা’ সন্দেহে তাকে ধরে হালকা উত্তম-মাধ্যম দেওয়া হয়। পরে শিশুসহ খোরশেদকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
পুলিশের
দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিশুকে তার বাবা-মা নিয়ে গেছেন। অভিযুক্তকে
আইনানুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ওদিকে
শিশুদের ব্যাপারে মা-বাবা ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন দায়িত্বশীল একজন
সরকারি কর্মকর্তা। তার মতে, পরিবার হচ্ছে শিশুর কাছে শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান। একটা
শিশু যেন অপরিচিত অন্য যে কোনো লোকের সঙ্গে যে কোনো স্থানে না যায়, সে বিষয়ে শিশুকে
সচেতন করার দায়িত্ব বাবা-মায়ের। একা একা রেখে না গিয়ে, কারো কাছে বলে যেতে হবে- আমার
শিশুটির দিকে একটু নজর রাখবেন। এতে যে কোনো ধরণের দুর্ঘটনা ঘটবে কম। পরিবার ও বাবা-মাকে শিশুদের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে,
শিশুদের খেয়াল রাখতে হবে।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে