নাটোরের গুরুদাসপুরে চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া ও আনন্দ নগরে মহল্লায় রাস্তা সংস্কার কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ওদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে নিম্নমানের উপকরণ সরিয়ে নিতে সময় বেঁধে দিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে পৌর কতৃপক্ষ |
অফিস সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে রিজিলিয়েন্ট আরবান এ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় গুরুদাসপুর পৌরসভায় এক প্যাকেজে এ দুটি মহল্লায় নির্দিষ্ট রাস্তার কার্পেটিং, আরসিসি ড্রেন, সড়ক বাতি ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ ৫টি কাজের ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭১ টাকা বরাদ্দে টেন্ডার আহবান করা হয়| এতে সিনথিয়া-আলামিন-আনিসুর (জয়েন ভেঞ্চার) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ পায়| প্রথমে দুইটি কার্পেটিং রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে| একটি পৌরসভার আনন্দ নগর মহল্লার চাঁচকৈড় ওভার ব্রীজ থেকে খুবজীপুর অভিমুখে পৌরসঢমানা পর্যন্ত| অন্যটি চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া দুখা ফকিরের মোড় হতে তাড়াশিয়া পাড়া পৌর সীমানা পর্যন্ত|
বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তায় নিম্নমানের খোয়ার আস্তরান বিছিয়ে তাতে পানি দিয়ে রোলিং করে রাখা হয়েছে| উপজেলার এলাহীর মোড়ে স্তুপ করে রাখা অব্যবহৃত উপকরণের ছবি তুলতে গেলে বেশ ক’জন এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এমন খারাপ উপকরণ দিয়ে কাজ করলে টিকবে ক’দিন?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া দুখা ফকিরের মোড় হতে তাড়াশিয়াপাড়া পৌর সীমানা পর্যন্ত ২ হাজার ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসই ও আধুনিকায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক অর্থ বরাদ্দ দেয়| স্থানীয়দের দাবি,সড়কটির নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট,বালি,খোয়া ব্যহারের করা হচ্ছে|
স্থানীয়রা
ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন পর অবহেলিত এ
সড়ক সংস্কার
কাজ শুরু হয়েছে| ঠিকাদার দরপত্র অনুসারে ইট,বালি,খোয়া
ব্যবহার না করে আমাদের
অভিযোগ আমলে না নিয়ে প্রভাব
খাটিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন|
কাজ বন্ধ ও কতৃপক্ষের চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা জানান, কোন অনিয়ম বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার হচ্ছে না| খোয়ার সাথে ১০% বালি, ছোট খোয়া মিশ্রণ করে পানি দিয়ে ভিজিয়ে বেডে দিতে হচ্ছে| এটা একটা নতুন ডিজাইন| এ কারণে স্থানীয়দের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল|
গুরুদাসপুর পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে| কাজ আপাততঃ বন্ধ রাখা হয়েছে| কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না| দরপত্রের বাইরে বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ নেই| কাজ বুঝে নিতে সার্বক্ষনিক নজরদারী রয়েছে|
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে