কুরবানির
ঈদকে ঘিরে দেশের ব্যাংকগুলোতে
নগদ টাকার চাহিদা
বেড়েছে। কিন্তু এক সপ্তাহ হচ্ছে পর্যাপ্ত
টাকা সরবরাহ করতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে গ্রাহকদেরকে তাদের চাহিদা মতো
টাকা দিতে পারছে না ব্যাংকগুলো।
প্রাপ্ত
তথ্যমতে, কুরবানির ঈদের
আগে টাঁকশালের কাছে অন্তত ১৬ হাজার কোটি
টাকার নতুন নোট চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখান থেকে জানানো হয়েছে, কাগজ-কালির সংকটের কারণে সর্বোচ্চ ৮ হাজার কোটি
টাকার নোট দেওয়া সম্ভব।
হিসাব অনুযায়ী, এখন ব্যাংক খাতে সব মিলিয়ে ২৪ লাখ কোটি টাকার মতো সঞ্চয় রয়েছে। আর ছাপানো টাকার চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। ঈদ সামনে রেখে ছাপানো নোটের চাহিদা প্রতিবছরই বাড়ে। তাই এ সময় সর্বোচ্চসংখ্যক নতুন নোট বাজারে দেওয়া হয়।
সাধারণত নতুন নোট বাজারে আনতে প্রক্রিয়া শুরুর পর ১০ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। নোটের নকশা বদলের ক্ষেত্রেও একযোগে না পরিবর্তন করে একটি-একটি করে বদল করা হয়। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী বিশেষ পরিস্থিতিতে একযোগে সব মূল্যমানের নতুন নকশার নোট বাজারে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি পুরোনো নকশার নোট বাজারে ছাড়া বন্ধ রাখা হয়। এ কারণে চাহিদার সঙ্গে জোগানে বড় পার্থক্য দেখা দেয়। এ কারণের নগদ নোট নিয়ে এরকম সংকটের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত পুরোনো নকশার ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনে পড়ে আছে। এ নোট চাইলে দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত নোট আপাতত না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওদিকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত অর্ধপ্রস্তুত অবস্থায় ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিপরীতে নতুন নকশার নোট ছাপাতে কাগজ-কালি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সময়স্বল্পতার কারণে এ নোট ছাপা শেষ করে ঈদের আগে বাজারে দেওয়া সম্ভব হবে হচ্ছে না।
বাংলাদেশ
ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চব্বিশের
আগস্ট-পরবর্তী
নতুন নকশার নোট আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। ফলে বাজারে নোটের সংকট সৃষ্টি হয়। তবে শিগগিরই ব্যাংকগুলোকে নতুন টাকা দেওয়া শুরু হবে, এ সংকট আর
থাকবে না বলে জানান তিনি।
বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে