দেশেই উৎপাদন হবে ডেঙ্গু জলাতঙ্ক হামের টিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ মে ২০২৬


প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে দেশে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক হামের টিকা এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের টিকার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে এক কোটি ভায়াল টিকা উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করেছে রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)। ইডিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. . সামাদ মৃধা তথ্য জানিয়েছেন। খবর বাসস

জানা গেছে, দেশের জনস্বাস্থ্যের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, সাপের কামড় হাম বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব রোগ প্রতিরোধে দেশে টিকা উৎপাদন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। দেশের বাজারে এসব টিকার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, মুন্সীগঞ্জে প্রায় ১০ একর জমির ওপর প্রায় সাড়ে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দে একটি আধুনিক ভ্যাকসিন রিসার্চ কমপ্লেক্স স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কমপ্লেক্সে সব ধরনের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা, নতুন বায়োটেকনোলজি পণ্য উন্নয়ন জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন ইউনিট স্থাপন করা হবে। এ কমপ্লেক্স নির্মাণে অর্থায়ন করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। এ  কেন্দ্রে ২০৩২ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইডিসিএল’র এমডি মো. . সামাদ মৃধা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এক বছরের মধ্যে চার টিকা উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে উৎপাদন শুরু করে সরকারের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ইডিসিএল’র এমডি জানান,  বর্তমানে দেশে চার ধরনের টিকার মোট বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ। উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যে দামে এসব টিকা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, তার প্রায় অর্ধেক মূল্যে স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।  দেশের চাহিদা মিটিয়ে টিকা রপ্তানির সুযোগও তৈরি হবে।

জানা গেছে, এ বছর হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে দেশে। গত মে পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার ৬৫৬ জন শিশু। সময়মতো টিকা না পাওয়ায় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করছেন স্বাস্থ্য বিশেজ্ঞরা।

ওদিকে বর্তমানে দেশের হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিভেনম এবং জলাতঙ্ক নিরোধী টিকার কিছুটা হলেও সংকট রয়েছে। প্রতি বছর অ্যান্টিভেনমের অভাবে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয় দেশে। এর মধ্যে হাজার ৫০০ জনের বেশি মারা যায়।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে

 


মন্তব্য
জেলার খবর