পাবনার চাটমোহরসহ আশেপাশের উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়িতে তৈরি হচ্ছে অবিকল দুধ। কৃত্রিম এ দুধ কৌশলে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দুগ্ধজাত খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কোম্পানির দুধ সংগ্রহকারী স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে। আসল দুধের মতো দেখতে, সাদা ও ঘন কিন্তু রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরি নকল এ দুধ শিশুসহ যে কোনো বয়সী মানুষের জন্য চরম স্বাস্থ্যহানিকর বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত ছানার পানি, স্কিম মিল্ক পাউডার, সয়াবিন তেল, চিনি, লবণ, এবং ঘন করতে স্টার্চ বা আলুর পেস্ট ব্যবহার করে এমন অবিকল দুধ তৈরি করছে স্থানীয় কিছু লোক। সম্প্রতি চাটমোহর,ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলায় হানা দিয়ে অবিকল দুধ ও এমন দুধ তৈরির উপকরণ ধ্বংস করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে।
সবশেষ শনিবার (৯ মে) চাটমোহর উপজেলায় ভেজাল দুধ তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উপজেলার নটাবাড়িয়া জোলার কান্দি গ্রামে যে লোকের বাড়িতে অবিকল দুধ তৈরি হচ্ছিল, সেই ব্যক্তি আব্দুল মমিন কৃষক দলের নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত। এর আগেও অবিকল দুধ তৈরির করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে জরিমানা করেছিল। এ ঘটনায় বিলচলন ইউনিয়ন কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে থাকা আব্দুল মমিনকে দলীয়ভাবে শোকজ করা হয়।
জানা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) পাবনা সেই বাড়িতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এ অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে ছিলেন চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী।
এদিকে অভিযানের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বাড়ি থেকে সটকে পড়েন আব্দুল মমিন। পরে তার বাবাকে গ্রেফতার করা হয়। আভিযানিক দল আব্দুল মমিনের বাড়ির পাশাপাশি গ্রামের আরেক বাসিন্দা ইসমাইল হোসেনের ছেলে আল আমিনের বাড়িতেও হানা দেয় একই কারণে। সব মিলে এ অভিযানে ৫৭০ লিটার অবিকল দুধ তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ উপকরণের মধ্যে ছিল-ডিটারজেন্ট গুড়া, সয়াবিন তেল, জেলিসহ রাসায়নিক উপকরণ।
পুলিশের দায়িত্বশীর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় চাটমোহর থানায় মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে