নিরাপত্তা নিয়ে বিগত ১৭ বছরে সন্দিহান বোধ করেছে মানুষ। জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে এখনো শঙ্কিত থাকায় দ্রবমূল্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে না মানুষ। চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট, দুর্নীতি বন্ধ না হলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ কখনোই সম্ভব হবে না। এমন একজন শাসক চায় সাধারণ মানুষ, যেখানে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ থাকবে। চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে অনেক কিছুর দাম কমে আসবে। চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে রাজনৈতিকভাবে। সেই সঙ্গে প্রতিবছর ভ্যাট বাড়ানোর নীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ১৫ শতাংশ ভ্যাট রীতিমতো বোঝা তৈরি করে সাধারণত মানুষের কেনাকাটায়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ‘দ্রব্যমূল্য ও ভোটার ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে পাবলিক ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্ক (পাইনেট) আয়োজিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মামুন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ এম মোশাররফ হোসেন।
বৈঠকে বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, ক্যাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহা. শওকত আলী খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব সালেহা আফরোজ, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সেক্রেটারি ড. ফেরদৌস আরা খাতুন (বকুল), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. জোবায়ের আহমেদ, অপরাজিতা বিডির সম্পাদিকা আকলিমা ফেরদৌসী প্রমুখ।
বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ে বলা হয়, দেশে অতি জরুরি নিত্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে থাকে। কিন্তু বিলাসবহুল পণ্যে কম থাকে মূল্যস্ফীতি। এতে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তরা তাদের প্রয়োজনীয় খাবার কমাতে বাধ্য হয়। বিলাসবহুল পণ্য ভোগীদের কোনো ক্ষতি হয় না। বৈষম্যের এ জায়গাটায় সংস্কার করা দরকার।
এমন বিধান করতে হবে যেখানে ব্যবসা করতে পারবে না এমপিরা। এমপি হিসেবে জনগণের চাকরিটাই ঠিকমতো করতে হবে তাদের। এতে তারা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে পারবে। তারা নিজেরাই ব্যবসা করলে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যই তো থাকবে না তাদের।
সরকারের একার পক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে আমলাদের। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক দলগুলো কি ধরনের পদক্ষেপ নিতে চায়, সে বিষয়ে নির্বাচনী ইশতেহারে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
বৈঠকে উঠে আসে, নিম্নবিত্ত ও নিম্ন- মধ্যবিত্তের জীবনমান পর্যবেক্ষণ করেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে দ্রব্যমূল্য। বাসাভাড়া থেকে শুরু করে একটি পরিবারের কত টাকা ব্যয় আর কত টাকা আয় হয়, সেটির পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ করা উচিত। নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের আয়-ব্যয়ের মূল্যায়ন করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা না হলে সব সময়ই তাদের জন্য বোঝা হবে এটা।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বৈঠকে বলা হয়, কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য। ভোটারদের আস্থা পুনর্গঠন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা বাড়ানো জরুরি। নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে