ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ক্রমশঃ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডসহ ১৪৪টি সহিংসতার ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। জনসভা, গণসংযোগ এমনকি সাধারণ নির্বাচনী কর্মসূচি ঘিরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হামলা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ভোটের দিন যতো এগিয়ে আসছে, এ প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে জনমনে আতঙ্ক ততো বাড়ছে। শেরপুর, গাজীপুর এবং ময়মনসিংহে নির্বাচনী কর্মসূচিকে ঘিরে প্রাণহানির ঘটনাগুলো ইতোমধ্যে জনমনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেড় সহস্রাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।
প্রাপ্ত তথ্যমেত, তফসিল ঘোষণা পর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে ৫৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ৬টি, ১১টি ঘটেছে ভীতি প্রদর্শন ও আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা। এর বাইরে প্রচারে বাধা প্রদান করা হয়েছে ১৭টি। নির্বাচনী অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে আটটি। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দুটি, সংখ্যালঘুদের ওপর একটি আক্রমণ, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন ছয়টি, অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অন্যান্য ঘটনা হয়েছে ২৪টি।
২৫টি জেলা এবং ৩ টি মহানগরে সহিংসতার বিস্তার ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংঘাতপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুর জেলা। এছাড়া পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ অন্তত ১৫টি জেলায় উত্তেজনা চরমে রয়েছে। প্রচারণায় বাধা, নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ এবং প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা পরিবেশকে ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা নজরদারি। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও। সারা দেশে চলছে যৌথ বাহিনীর অভিযান ও টহল। সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তসহ গ্রেপ্তার করা হচ্ছে নিয়মিত।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। আইএসপিআর জানায়, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৫৩টি অস্ত্র ও ১ হাজার ৮৩৪টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনী মাঠে কাউকেই আইন ভঙ্গ করতে দেওয়া হবে না। বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্তদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে