পঞ্চগড়ে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দে নবনির্মিত পৌর মার্কেটের বিভিন্ন দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় দেওয়াল ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে মার্কেট ভবনের। শুধু ভবনে ফাটল নয়, পৌরসভার অব্যবস্থাপনায় মার্কেটটির বিদ্যুৎ লাইন, পানির লাইন অকেজো হয়ে পড়েছে। তবে সব ঠিক আছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভার তথ্যমতে, ২০২১ সালের জুনে পৌর কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশে পৌর সুপার মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তৃতীয় নগর পরিচালন ও উন্নতিকরণ প্রকল্পের আওতায় ৬ তলা বিশিষ্ট এ সুপার মার্কেটের নির্মাণ ব্যয়ের বরাদ্দ ধরা হয় ৫০ কোটি টাকা। তবে শুরুতে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডসহ একতলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছিল মেসার্স শেখ ট্রেডার্স ও কবির ট্রেডার্স (জেভি)।
সম্প্রতি সরজমিনে দেখা গেছে, নবনির্মিত পৌর মার্কেটের ১০ টি দোকানঘরের অধিক মিটারে বিদ্যুৎ থাকলেও সুইচ চাপলে কোন আলো জ্বলে না। ওয়াশরুমে দীর্ঘদিন ধরে পানি না থাকায় নষ্ট পড়ে আছে। ভবনের অগণিত স্থানে ফাটল ধরেছে। ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডের ফ্লোরে পানি জমাট হয়ে আছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ভবনের ফাটল মানুষকে আতঙ্কিত করে রাখে। তৎকালীন আওয়ামীলীগ সমর্থিত মেয়র জাকিয়া খাতুন ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর আওয়ামীলীগপন্থি আব্দুল হান্নান শেখ কাজ করেছেন। তাই নিম্নমানের কাজ হলেও তাকে কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পায়নি।
পঞ্চগড় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রনব চন্দ্র দে বলেন, মার্কেটের বিদ্যুৎ লাইন চালু আছে। বর্তমানে পৌরসভার মিটার থেকে চলতেছে। দোকানঘর বরাদ্দ হয়ে গেলে সবাই যখন আলাদা মিটার স্থাপন করবে তখন চলবে। পাম্প সর্ট সার্কিটে পুড়ে যাওয়ায়, ঠিক করা হচ্ছে। আশা করছি এক-দুই দিনের মধ্যে পানির সমস্যা সমাধান হবে। ভবনের নকশা ফেটে যায়নি। আর যদি ফেটে থাকে তাহলে ভবন বিশেষঞ্জ বলতে পারবেন।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে