৩৫ শতাংশ বাস্তবায়িত কাজের অগ্রগতি রিপোর্ট ৭০ শতাংশ

সম্রাট হোসাইন, পঞ্চগড়
০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

পঞ্চগড়ে বছরেও শেষ হয়নি আটোয়ারী উপজেলার উত্তর রামপুর দাখিল মাদ্রাসার ভবনের নির্মাণ কাজ। এতে পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে। সেই সঙ্গে ভোগান্তিতে রয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাফিলতিতে কাজ শেষ হচ্ছে না। এদিকে কাজের অগ্রগতির সর্বশেষ প্রতিবেদনে ৭০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন দেখানো হলেও বাস্তবে ৩৫ শতাংশ কাজ হয়েছে। এমন অবস্থায় ছাদ ঢালাই হলে আরো শতাংশ বাড়ার কথা জানিয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী।

সম্প্রতি সরজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনের কলাম পর্যন্ত কাজ হয়েছে। ছাদ ঢালাইয়ের জন্য সাটারিং চলছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০০’র মতো। নিয়মিত ১০০-১৫০ জন শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় আসে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ভবন সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় উত্তর রামপুর দাখিল মাদ্রাসায় ৮০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দে ৪ তলা ভিত্তিযুক্ত একতলা ভবনের নির্মাণকাজের কার্যাদেশ  মেসার্স মনিরা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ছিল মাস। কিন্তু কেটে গেছে প্রায় বছর মাস। এখনো পর্যন্ত ৩০ শতাংশ নির্মাণ কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। যদিও প্রকৌশলী অফিসের কাগজে সেটা ৭০ শতাংশ কাজ দেখানো হয়েছে। বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৩২ লাখ টাকা।

শিক্ষার্থীরা জানান, মাদ্রাসায় ভবন নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায়  গরমের দিনে  খুবই কষ্ট হয়। ঝড়-বৃষ্টি হলে আরো বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয় আমাদের।

উত্তর রামপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট সানাউল্লাহ জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মাদ্রাসা ভবনের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় আমরা শ্রেণী কক্ষ সংকটে রয়েছি। বার বার শিক্ষা প্রকৌশলী অফিসের সাথে যোগাযোগ করেছি। দ্রুত নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান তিনি।

বিষয়ে মেসার্স মনিরা এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মুঠোফোনে বারবার কল করে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। পঞ্চগড় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুফিয়া সুলতানা জানান, কাজ করার জন্য বারবার ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের অর্থ সংকটের কারনে এতদিনে কাজ শেষ হয়নি। আমরা ঠিকাদারকে চাপ দিচ্ছি কাজটা তাড়াতাড়ি শেষ করার জন্য। বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করা হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

 

বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে



মন্তব্য
জেলার খবর