পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ জুলাই ২০২৬


অবশেষে সব ধরণের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সামাজিক মাধ্যমে আল-জাজিরার অনুসন্ধানী এক সাংবাদিকের পোস্টের পরেই তার পদত্যাগের বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে সংসদ সচিবালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন দেশের ২২ তম এ রাষ্ট্রপতি। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আভাস পাওয়া যায়-  শুক্রবার তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কথা পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।   

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি পদে নতুন কেউ নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন  রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৮ সালের এপ্রিলে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার মেয়াদকাল ছিল দেশের ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল সময়। তার দায়িত্ব পালনকালেই ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। দেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি ভিন্ন সরকারপ্রধানকে শপথ পড়ানোর নজির গড়েন তিনি।

অবশ্য ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সেই দাবিতে বিএনপি সায় দেয়নি। কিন্তু সম্প্রতি বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার পর তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলে জানা যায়।

এদিকে পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন লিখেন, ‘আমি মোঃ সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।

 

নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

 

আমি গুরুতর অসুস্থ উল্লেখ করে সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি বলেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরিক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে।

 

এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই জানিয়ে তিনি বলেন, রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।

 

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর