শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতাকে উল্লেখ করা হতে পারে। ইতোমধ্যে তাকে পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য জানা গেলেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি দায়িত্বশীল কেউ। এ নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা বা বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
জুলাই
গণঅভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগ
সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত
হন মো. সাহাবুদ্দিন। তার
হাত ধরে দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকার। গত দুই
বছরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবি জানালেও তাতে সমর্থন দেয়নি বিএনপি।
এদিকে
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে
কে আসতে পারেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক
মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নতুন করে আলোচনায় আসলেও বিএনপির
জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ আরও কয়েকজনের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হয়েছে আগেই।
জানা
যায়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিকভাবে অসুস্থ। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার স্নায়ুবিষয়ক জটিলতা ধরা পড়েছে।
পদত্যাগের পর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা
রয়েছে তার।
এদিকে
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়, গত ৯ মে রাষ্ট্রপতি লন্ডনে যান। ওই সফরে
শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয় তার। বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতে পারার পর
তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়।
এদিকে
চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রপতিকে মৌখিকভাবে পদত্যাগের অনুরোধ জানায় সরকার। এ সময় কিছুটা
সময় চান তিনি। বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর নাগাদ
পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাতে পারেন তিনি।
সংবিধান
অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করতে অপারগ হলে বা পদত্যাগ করতে চাইলে জাতীয় সংসদের
স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির
দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার। সেই সঙ্গে পদত্যাগ পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি
নির্বাচনের সাংবিধানিক বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে
সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
ওদিকে
বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক
মাধ্যম ফেসবুকে আল-জাজিরার অনুসন্ধানী
সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, ‘আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর
খবর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।’ এর পরেই মূলত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে
নানা আলোচনা শুরু হয়।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে