পঞ্চগড়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেড় বছর ধরে লাপাত্তা থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজ থমকে আছে। ওয়াশব্লক নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে শত শত শিশু শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
এদিকে ওয়াশব্লক নির্মাণ বাস্তবায়নকারী পঞ্চগড় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিনহাজুর রহমান জানিয়েছেন, বাকি কাজ এক মাসের মধ্যে শেষ করার চুক্তি করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আবার কাজ শুরু করেছে।
শিক্ষকরা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শুরু করে। ২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত কাজ হয়। এরপর আর কোন কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন নির্মাণ কাজ পড়ে থাকায় মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায় পরিনত হয়েছে ঘরগুলো। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করছে ঠিকাদারের লোকজন। এ নিয়ে বলতে গেলে কাজ রেখে চলে যাওয়ার হুমকিও দেয় নির্মাণ শ্রমিক।
সরজমিনে আটোয়ারী উপজেলার দক্ষিণ রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারো ঘরিয়া, জুগিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে- ওয়াশব্লকের নির্মাণকাজ ছাদ ঢালাই করে কিছু ইটের দেওয়াল করা হয়েছে। সেপ্টি ট্যাংকির ঢাকনি নেই। নির্মাণ কাজের জন্য কিছু নিম্নমানের ইট স্তুপ করা আছে।
জানা যায়, চতুর্থ পর্যায় প্রাইমারি শিক্ষা উন্নয়ন (পিইডিপি) প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ১০ টি বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকের জন্য টেন্ডার আহবান করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পঞ্চগড়। চুক্তিমূল্য প্রায় এক কোটি ৫৮ লাখ টাকায় ঠাকুরগাঁও এলাকার খায়রুল ইসলাম রোমান নামের এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে (ওপেন টেন্ডারে) কাজ দেয় নির্বাহী প্রকৌশলী।
তথ্যানুযায়ী ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এক বছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৪ সালের জুনে ছাদ ঢালাই ও কিছু ইটের গাঁথুনি করে ৬৫ শতাংশের বিল ৯০ লাখ টাকা উত্তোলন করে ঠিকাদার। এরপর থেকে লাপাত্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৫৫ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন করলেও ৬৫ শতাংশের বিল পরিশোধ করেছে নির্বাহী প্রকৌশলী।
বারো ঘড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লংকেশ্বর চন্দ্র সিংহ বলেন,২০২৪ সালের জুন মাসের পর আর কোন কাজ হয়নি ওয়াশব্লকের। একই বক্তব্য ছিল মোজাহারুল ইসলামের। দক্ষিণ রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাকী আক্তার ওয়াশব্লক ছাড়া শিক্ষক শিক্ষিকাদের শোচনীয় অবস্থা তুলে ধরেন।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলছে, কাজ চলমান রয়েছে। ১৭ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪টি বিদ্যালয়ের কাজ অসমাপ্ত ছিল। বাকীগুলো হস্তান্তরের অপেক্ষায়। আগামী এক মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে বলে আশা করছে তারা।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে