পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ অলদিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুনঃভর্তি ফির সাথে নানা কৌশলে বাড়তি এক হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার সিংহ বলেন, প্রতিষ্ঠানে পরিমাণের তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় ‘গেষ্ট’ শিক্ষকের ভাতা দেওয়ার জন্য কিছু অভিভাবক মিটিং করে এ অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। পেরেন্টস টিচার এসোসিয়েশন (পিটিএ) নামে কমিটি করা আছে। তারা অর্থ আদায় করে এবং তাদের হিসাব নম্বরে জমা রাখেন। পরে সেখান থেকে গেষ্ট শিক্ষকের ভাতা প্রদান করা হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণীতে ১১০ জন, সপ্তমে ১১০, অষ্টমে ১১০, নবমে ১০৭ ও দশম শ্রেণীতে ৮৮ জন ছাত্রী রয়েছে। শিক্ষকের পদ ২৭টি থাকলেও কর্মরত রয়েছে ১১ জন শিক্ষক। পুনঃভর্তি ফি এক হাজার ৪৩৫ থেকে শ্রেণীভেদে এক হাজার ৪৬৫ টাকা। কিন্তু নেওয়া হয়েছে দুই হাজার ৯৩৫ থেকে দুই হাজার ৯৬৫ টাকা।
দেবীগঞ্জ থানাপাড়া এলাকার পারভেজ বলেন, তার মেয়ে সপ্তম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার কাছে পুনঃভর্তিসহ মোট দুই হাজার ৯৩০ টাকা নিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
চয়নুল ইসলামের মেয়ে সপ্তম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার কাছেও নিয়েছেন দুই হাজার ৯৩০ টাকা। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে সপ্তম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ ছাত্রীর বাবা নুরনবী দিয়েছেন দুই হাজার ৯৩০ টাকা। একইভাবে বাড়তি টাকা দিয়েছেন আসাদুজ্জামান দোলনসহ একাধিক অভিভাবক।
বিদ্যালয় পেরেন্টস টিচার এসোসিয়েশন কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অর্থ উত্তোলন করে এবং তারাই ভাতা প্রদান করবেন গেস্ট টিচারদের। গত বছরেও অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে আমি এবার সভাপতি হিসেবে নতুন।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, সরকারি ফি এর অতিরিক্ত কোন অর্থ আদায় করতে পারবে না। অভিভাবক কমিটি বা পিটিএ কমিটির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তদন্ত করে প্রমানিত হলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে