দেশে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তারের ধরণ উদ্বেগজনক হারে পরিবর্তন হচ্ছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় মরণঘাতি এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিষয়টি জানিয়েছে ইইডিসিআর। সংস্থাটি জানায়, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। গ্লোবালি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ।
সংস্থাটির তথ্যমতে- গত বছরে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী— এ চার জেলায় চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন। আক্রান্তদের প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশু ঘটনাটি ছিল দেশে প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস। সেখানে শীতকালের অনেক আগেই, আগস্ট মাসে নিপাহ শনাক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম, খেজুর, আম) খাওয়া। এ ঘটনা নিপাহ ছড়ানোর একটি নতুন ও এলার্মিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এদিকে খেজুরের কাঁচা রসকে ভাইরাসের প্রধান উৎস মনে করা হলেও নওগাঁর শিশুটির ঘটনা প্রমাণ করে যে, বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত যে কোনো আধা-খাওয়া ফল সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাছাড়া শীতকালের বাইরে সারা বছরই সংক্রমিত হওয়া সম্ভব।
মানুষ থেকে মানুষে নিপাহের সংক্রমণ ঘটে উল্লেখ করে সংস্থাটি আরও জানায়, প্রায় ২৮% ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমণ ছড়ায়। এতে স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে ফেলে ।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে