পঞ্চগড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি

সম্রাট হোসাইন, পঞ্চগড়
১৩ এপ্রিল ২০২৬


পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজে নিম্নমানের কাজ, জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দাম কাজ না করেই বিল উত্তোলনসহ ঘুষ বাণিজ্য, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার এলজিইডি উপ-সহকারি প্রকৌশলী এ অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

সম্প্রতি সরজমিনে দেখা যায়, বোদা উপজেলার শিকারপুর বাগানবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজের প্রাক্কলনে মনিটর ধরা থাকলেও ক্রয় করা হয়নি। নিম্নমানের ইউক্যালিপটাস গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দরজা, তালা হাজার ১০০ টাকা ধরা থাকলেও ক্রয় করা হয়েছে ২৫০ টাকায়।

প্রধান শিক্ষক গুলশান আরা আকতার বলেন, কাজ আরো অনেক বেশি করা হয়েছে। এ ছাড়াও কাজের প্রাক্কলন করতে এলজিইডি উপ-সহকারি প্রকৌশলী নুর আকরামকে দেওয়া হয়েছে হাজার টাকা। বিল করতে উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলমকে দেওয়া হয়েছে হাজার টাকা। এগুলো টাকা কোথায় পাবো? এখান থেকে সমন্বয় করা হয়েছে।

জোতদেবীকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র। সেখানে ৪ হাজার ২০০ টাকায় পানির পাম্প নিয়ে মেমোতে দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ১৩২ টাকা। ৫০০ টাকা তালার দাম ধরা হয়েছে হাজার ১৩৫ টাকা। রাউটার দেখানো হয়েছে হাজার টাকা। অতিরিক্ত দামের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আরো বিভিন্ন খরচসহ মিস্ত্রির মজুরি দিতে হয়। শিক্ষা অফিসারকে চা খরচ দিতে হয়। সব কিছুতো আর লেখা যায় না।

শালশিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিব কক (পানির টেপ) ৯১০ টাকায় ক্রয় দেখানো হলেও কেনা হয়েছে ৬০ টাকায়, হাজার ৪০০ টাকায় ফ্যান কিনে দেখানো হয়েছে হাজার ৪৮০ টাকা, ফাইল কেবিনেট মেরামত দেখানো হয়েছে হাজার ৫০০ টাকা।

ভাসাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যমুনা ব্রান্ডের ২০ ওয়াট এনার্জি বাল্ব ৩০০ টাকায় ক্রয় করে দেখানো হয়েছে ৯০০ টাকা, হোল্ডার ৭০ টাকায় কিনে দেখানো হয়েছে ২৫০ টাকা। এ ছাড়াও উপজেলার একাধিক বিদ্যালয় ঘুরে একই চিত্র চোখে পড়ে।

শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত বোদা উপজেলার ২৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেরামত করার লক্ষ্যে ৩০ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এদিকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বোদা উপজেলার এলজিইডি উপ-সহকারি প্রকৌশলী নুর আকরাম।

উৎকোষ নেওয়া অভিযুক্ত উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমিও শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে ধরেছি। পরে আমাকে বলেছে বাগান করতেছি। এ জন্য পরে কিছু বলিনি। তবে আমার বিরুদ্ধে যে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা, যে অভিযোগ করেছে সে নিজে বাঁচার জন্য বলেছে।

বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, স্কুলের সংস্কার কাজের সময় কম হওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছে। তবে টাকা নেওয়া দেওয়া দুটাই অপরাধ।  বিষয়টা দেখবো।

 

বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে



মন্তব্য
জেলার খবর