কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্টদের সঠিক পরিকল্পনা এবং কার্যকর খাদ্য নীতি প্রণয়নের ফলে দেশের খাদ্য মজুতের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে খাদ্যমজুতে। সরকারি গুদামে মজুত ২০ লাখ মেট্রিক টনের মাইলফলক অতিক্রম করেছে এবার।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় এবার মজুত বেড়েছে প্রায় ৮ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিক টন। গত বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মজুত ছিল ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৪১৮ মেট্রিক টন খাদ্য। এবার পহেলা জানুয়ারিতে সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ২৭ হাজার ৪২০ মেট্রিক টনে। শুধু গত বছরেই নয়, গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মজুত দাঁড়িয়েছে এবার।
ছয় বছরের খাদ্য মজুতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে- ২০২১ সালে খাদ্য মজুতের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ২৬ হাজার ৭৮৩ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ছিল ৫ লাখ ৩০ হাজার ২৩৯ মেট্রিক টন, গম ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫১২ মেট্রিক টন এবং ধানের ছিল ১ হাজার ৩২ মেট্রিক টন৷ ।
এরপরের বছর ২০২২ সালে খাদ্য মজুতের পরিমাণ ছিল মোট ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ১৫ লাখ ৯ হাজার ৭৩৮ মেট্রিক টন, গম ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৯ মেট্রিক টন এবং ধান ছিল ২৫ হাজার ১২২ মেট্রিক টন৷ ২০২৩ সালে মোট ১৮ লাখ ২ হাজার ৩৮৮ মেট্রিক টন ছিল খাদ্য মজুত। এর মধ্যে চাল ১৪ লাখ ৫১ হাজার ৫৭ মেট্রিক টন, গম ৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৬৮ মেট্রিক টন এবং বাকি ৮৬৩ মেট্রিক টন ছিল ধানের মজুত। ২০২৪ সালে খাদ্য মজুত ছিল সবমিলিয়ে ১৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬২ মেট্রিক টন, গম ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৫৩ মেট্রিক টন এবং বাকিটা ধানের মজুত ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ মেট্রিক টন।
সবশেষ গতবছরে চালের ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬২ মেট্রিক টন, গমের ৪ লাখ ১৫ হাজার ২৩১ মেট্রিক টন এবং ধানের ৭ হাজার ৫২৫ মেট্রিক টন মিলিয়ে খাদ্য মজুতের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৪১৮ মেট্রিক টন।
চলতি বছর চালে ১৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮৭ মেট্রিক টন, গমের ২ লাখ ৩৩ হাজার ২২৪ মেট্রিক টন এবং ধানের ৯৭ হাজার ৪০৯ মেট্রিক টন মিলে খাদ্য মজুতের পরিমাণ দাঁড়িযেছে ২০ লাখ ২৭ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন৷ এটা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ মজুত বলে জানা গেছে।
সরকারের খাদ্য বিভাগ নিয়মিত মজুত ও বিতরণের মাধ্যমে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কাজ করছে। এ মজুত সাধারণ জনগণকে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল মূল্যবোধে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করছে তারা।
বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে